ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী Logo মিশিগানে ইতিহাস গড়ে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল–সাইদ

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তবু বাজেট ও কর্মী কমাচ্ছে ইউএনএইচসিআর

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১০২ বার পঠিত

বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কার মধ্যেই বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের পথে যাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি ২০২৭ সালের বাজেট ১৬ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী পদ কমানোর পরিকল্পনা করেছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের জন্য ইউএনএইচসিআরের বাজেট ৭১৪ কোটি ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটি সংস্থাটির সর্বনিম্ন বাজেট।

বিশ্বের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ অঞ্চলে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও বড় দাতাদের বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ইউএনএইচসিআরকে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশ তাদের বিদেশি সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় সংস্থাটির আর্থিক পরিস্থিতির ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় সংস্থার কার্যক্রম ও ব্যয়ের পরিধি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে এসেছে।

জেনিভায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ইউএনএইচসিআর সংশোধিত বাজেট ও কার্যক্রম পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।

তবে সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘোষিত সাড়ে তিন হাজার পদ কমানোর সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সমানসংখ্যক কর্মী সরাসরি চাকরি হারাবেন। কারণ আগে থেকেই অনুমোদিত বেশ কিছু পদ খালি রয়েছে এবং সেগুলোর অনেকগুলো পূরণ করা হয়নি।

২০২৫ সালের বড় ধরনের অর্থঘাটতির কারণে ইউএনএইচসিআর ইতোমধ্যে কর্মীসংখ্যা কমানোসহ বেশ কিছু ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকায় সংস্থার কিছু কার্যক্রম ও অফিস বন্ধ করা হয়েছে।

খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে জেনিভায় ইউএনএইচসিআরের সদর দপ্তরও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার একটি ভবনে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান বারহাম সালিহ মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএনএইচসিআরের অন্যতম বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির দেওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ কোটি ডলার। চলতি বছরে তা কমে মাত্র ১১ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শরণার্থী সহায়তা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বড় কাটছাঁটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আমেরিকা অঞ্চল, যেখানে বরাদ্দ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বাজেট কমছে প্রায় ২২ শতাংশ। এর প্রভাব বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সুদান সংকট মোকাবিলায় পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার জন্য নির্ধারিত অর্থও প্রায় ২১ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইউক্রেন ও সুদানে চলমান সংঘাতের কারণে ২০২৭ সালে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউএনএইচসিআরের বাজেট কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ও উগান্ডার মতো শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটটি আগামী অক্টোবর মাসে ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এরপর নতুন বাজেট ও ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তবু বাজেট ও কর্মী কমাচ্ছে ইউএনএইচসিআর

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কার মধ্যেই বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের পথে যাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি ২০২৭ সালের বাজেট ১৬ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী পদ কমানোর পরিকল্পনা করেছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের জন্য ইউএনএইচসিআরের বাজেট ৭১৪ কোটি ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটি সংস্থাটির সর্বনিম্ন বাজেট।

বিশ্বের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ অঞ্চলে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও বড় দাতাদের বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ইউএনএইচসিআরকে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশ তাদের বিদেশি সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় সংস্থাটির আর্থিক পরিস্থিতির ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় সংস্থার কার্যক্রম ও ব্যয়ের পরিধি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে এসেছে।

জেনিভায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ইউএনএইচসিআর সংশোধিত বাজেট ও কার্যক্রম পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।

তবে সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘোষিত সাড়ে তিন হাজার পদ কমানোর সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সমানসংখ্যক কর্মী সরাসরি চাকরি হারাবেন। কারণ আগে থেকেই অনুমোদিত বেশ কিছু পদ খালি রয়েছে এবং সেগুলোর অনেকগুলো পূরণ করা হয়নি।

২০২৫ সালের বড় ধরনের অর্থঘাটতির কারণে ইউএনএইচসিআর ইতোমধ্যে কর্মীসংখ্যা কমানোসহ বেশ কিছু ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকায় সংস্থার কিছু কার্যক্রম ও অফিস বন্ধ করা হয়েছে।

খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে জেনিভায় ইউএনএইচসিআরের সদর দপ্তরও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার একটি ভবনে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান বারহাম সালিহ মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএনএইচসিআরের অন্যতম বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির দেওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ কোটি ডলার। চলতি বছরে তা কমে মাত্র ১১ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শরণার্থী সহায়তা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বড় কাটছাঁটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আমেরিকা অঞ্চল, যেখানে বরাদ্দ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বাজেট কমছে প্রায় ২২ শতাংশ। এর প্রভাব বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সুদান সংকট মোকাবিলায় পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার জন্য নির্ধারিত অর্থও প্রায় ২১ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইউক্রেন ও সুদানে চলমান সংঘাতের কারণে ২০২৭ সালে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউএনএইচসিআরের বাজেট কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ও উগান্ডার মতো শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটটি আগামী অক্টোবর মাসে ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এরপর নতুন বাজেট ও ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

সূত্র: রয়টার্স