শালিস-থানা-এমপি মানল না’—গালুয়া বাজারে জমি জবরদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ৬২ বার পঠিত

হাওলাদার বেলাল, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের গালুয়া বাজারে পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল, হামলা ও হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রুহানা আক্তার নামে এক নারী। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, পৈতৃক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজাপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রুহানা আক্তার এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার বাবা হাছেন শরীফ গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর ১০ সেপ্টেম্বর রাতে গালুয়া বাজার এলাকায় তাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম, তার ভাই শফিকুল ইসলাম, তাদের স্বজনসহ ২০-২৫ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রুহানা আক্তারের দাবি, জে.এল. ৩৭ নম্বর গালুয়া দুর্গাপুর মৌজার এস.এ খতিয়ান নম্বর ৭৪১, ১৫৪১, ১৪২৩ ও ১৪৩৬-এর অন্তর্ভুক্ত এস.এ ১১৫২, ১১৫৩, ১১৬৯ ও ১১৭০ নম্বর দাগের মোট ১০১ শতাংশ জমির মধ্যে ১১৭০ নম্বর দাগের ১৯ শতাংশ জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই জমিতে রাত আনুমানিক ৪টার দিকে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হামলায় তিনি ও তার পরিবারের আরও ছয় সদস্য আহত হয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জমি নিয়ে আগে থেকেই আদালতে একটি বণ্টন মামলা চলমান ছিল। মামলাটির নম্বর ৮১/২৪। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের শরণাপন্ন হন বলে জানান রুহানা আক্তার।
তার দাবি, কয়েক দফা গণশুনানি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের কাগজপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর সালিশে তাদেরকেই জমির প্রকৃত ওয়ারিশ ও মালিক হিসেবে রায় দেওয়া হয়। তবে সালিশের ওই সিদ্ধান্তের পরও প্রতিপক্ষ জমি দখল করে রেখেছে এবং তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রুহানা আক্তার বলেন, “শালিস মানল না, থানা মানল না, এমপি মানল না—এখন মিডিয়া ও প্রশাসনের কাছে আমাদের শেষ ভরসা।”
তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, পৈতৃক সম্পত্তি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান রুহানা।






















