ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার তালিকায় বিতর্কিত ছাত্রদল নেতার নাম, উঠছে প্রশ্ন Logo বিজয়নগরে জমির ফসল নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে হামদু মিয়া হত্যা, প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতার  Logo ৫০ বছর শুধু প্রেসক্লাবের উৎসব নয়, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর উৎসব, এমপি শ্যামল  Logo ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ Logo ডিজাইন, পারফরম্যান্স ও স্থায়িত্বে জোর দিয়ে নতুন ৫জি স্মার্টফোন আনছে ইনফিনিক্স Logo স্মার্টফোন ডিসপ্লেতে নতুন যুগ: ০ মিমি বর্ডারলেস কনসেপ্ট আনল টেকনো Logo ভারতের পুনেতে জরুরি অবতরণের সময় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ Logo শিক্ষার্থীদের জন্য দারাজে এক্সক্লুসিভ ডিসকাউন্ট নিয়ে আসছে রিয়েলমি সি১০০এক্স Logo দীর্ঘস্থায়ী ৭,৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং শক্তিশালী গরিলা গ্লাস ৭আই সুরক্ষা নিয়ে শাওমি উন্মোচন করল নতুন রেডমি ১৭

ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার তালিকায় বিতর্কিত ছাত্রদল নেতার নাম, উঠছে প্রশ্ন

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ৬০ বার পঠিত

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ ও তদারকির জন্য তৈরি করা চূড়ান্ত তালিকায় এক ছাত্রদল নেতার নাম থাকাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ওই নেতার বিরুদ্ধে অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২নং চরবাটা ইউনিয়নের পশ্চিম চরবাটা গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম রাজুর নাম সুপারভাইজার হিসেবে রয়েছে। তিনি বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এর আগে ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতৃত্বেও তার আগ্রহ ছিল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাকে দেখা গেছে। বর্তমানে উপজেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তাকে যুগ্ন-আহবয়ক পদে রাখা হয়েছে নিশ্চি করেন স্থানীয় একাধিক ছাত্র নেতা।

এদিকে নুরুল ইসলাম রাজুকে ঘিরে অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে ওই ভিডিওর সত্যতা, প্রেক্ষাপট বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ধরনের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল কনটেন্টের সত্যতা যাচাই ছাড়া তা প্রচার করাও সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহ ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগ্যতা, পেশাগত সক্ষমতা এবং গ্রহণযোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তালিকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় বা বিতর্কিত ব্যক্তির নাম থাকলে কর্মসূচিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে স্থানীয় রাজনৈতিক দল বা নেতাদের সুপারিশ গ্রহণ না করার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশনাও রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীর দাবি, তালিকাটি পুনরায় যাচাই করে প্রত্যেক ব্যক্তির যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।

তাদের মতে, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আরও অভিযোগ উঠেছে গত ৮ আগস্ট শনিবার রাতে নুরুল ইসলাম রাজু নেতৃত্বে চরমজিদ ভূঞারহাট এলাকার সাবেক নারী ইউপি সদস্য আলেয়া বেগমের ছেলে স্বাধীন কে ইয়াবা পাওয়ার অভিযোগ তুলে “মব” সৃষ্টি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। স্বাধীনের স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার অভিযোগ করে পরিবারটি। ৫ আগস্টের পর রাজুর বেপরোয়া চলাফেরা ও অবশ্য আচরণে অতিষ্ট দক্ষিণ অঞ্চলের জনপথ। এমন কোন অপরাধ নেই তার দ্বারা সংগঠিত হয়নি। জনমনে এক আতঙ্ক ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাই রাজুকে দিয়ে একটি মহল জানান একাধিক সূত্র।

নুরুল ইসলাম রাজুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সভাপতি আকিব ওসমান বলেন, ‘আমরা মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছি। এর মধ্যে কে ভালো মানুষ আর কে বিতর্কিত ও ছাত্রলীগ কর্মী তা জানার সুযোগ ছিল না। কেউ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ দাখিল করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে একই তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে—এমন আরও কয়েকজনের নাম থাকার বিষয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। ফলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি উঠেছে।

ট্যাগস :

ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার তালিকায় বিতর্কিত ছাত্রদল নেতার নাম, উঠছে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ ও তদারকির জন্য তৈরি করা চূড়ান্ত তালিকায় এক ছাত্রদল নেতার নাম থাকাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ওই নেতার বিরুদ্ধে অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২নং চরবাটা ইউনিয়নের পশ্চিম চরবাটা গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম রাজুর নাম সুপারভাইজার হিসেবে রয়েছে। তিনি বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এর আগে ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতৃত্বেও তার আগ্রহ ছিল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাকে দেখা গেছে। বর্তমানে উপজেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তাকে যুগ্ন-আহবয়ক পদে রাখা হয়েছে নিশ্চি করেন স্থানীয় একাধিক ছাত্র নেতা।

এদিকে নুরুল ইসলাম রাজুকে ঘিরে অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে ওই ভিডিওর সত্যতা, প্রেক্ষাপট বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ধরনের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল কনটেন্টের সত্যতা যাচাই ছাড়া তা প্রচার করাও সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহ ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগ্যতা, পেশাগত সক্ষমতা এবং গ্রহণযোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তালিকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় বা বিতর্কিত ব্যক্তির নাম থাকলে কর্মসূচিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে স্থানীয় রাজনৈতিক দল বা নেতাদের সুপারিশ গ্রহণ না করার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশনাও রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীর দাবি, তালিকাটি পুনরায় যাচাই করে প্রত্যেক ব্যক্তির যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।

তাদের মতে, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আরও অভিযোগ উঠেছে গত ৮ আগস্ট শনিবার রাতে নুরুল ইসলাম রাজু নেতৃত্বে চরমজিদ ভূঞারহাট এলাকার সাবেক নারী ইউপি সদস্য আলেয়া বেগমের ছেলে স্বাধীন কে ইয়াবা পাওয়ার অভিযোগ তুলে “মব” সৃষ্টি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। স্বাধীনের স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার অভিযোগ করে পরিবারটি। ৫ আগস্টের পর রাজুর বেপরোয়া চলাফেরা ও অবশ্য আচরণে অতিষ্ট দক্ষিণ অঞ্চলের জনপথ। এমন কোন অপরাধ নেই তার দ্বারা সংগঠিত হয়নি। জনমনে এক আতঙ্ক ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাই রাজুকে দিয়ে একটি মহল জানান একাধিক সূত্র।

নুরুল ইসলাম রাজুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সভাপতি আকিব ওসমান বলেন, ‘আমরা মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছি। এর মধ্যে কে ভালো মানুষ আর কে বিতর্কিত ও ছাত্রলীগ কর্মী তা জানার সুযোগ ছিল না। কেউ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ দাখিল করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে একই তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে—এমন আরও কয়েকজনের নাম থাকার বিষয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। ফলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি উঠেছে।