ছাদে মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২
- আপডেট সময় : ০২:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পঠিত

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক সেবন দেখে ফেলায় হত্যার কথা জানিয়েছে তারা।
রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক দুজন হলেন—সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩)। রোববার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শেষ রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে মাদক সেবন ও আড্ডা দিচ্ছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। তারা এর আগেও সেখানে মাদক সেবন করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
ওই রাতে গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়।
এরপর মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ঘটনাস্থলে এলে তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সবশেষে ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদের চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যেভাবে উদ্ধার হয় চার মরদেহ
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় তার দোতলা বাড়ির ছাদে। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০) ও মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থীর (২৫) মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায় একটি খাটের নিচে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের কাউকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। শনিবার রাতের দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানান।
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। শনিবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সব ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তিনি স্বামীকে নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানান তিনি।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা বাড়ির তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
নিহতদের পরিচয়
গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫) রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি রংপুর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন।
তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০) গৃহিণী ছিলেন। মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাস্টার্স শেষ করে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
একটি পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




















