মার্কিন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দিলে প্রতিবেশীদের শত্রু ভাববে ইরান
- আপডেট সময় : ০৪:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের কর্মসূচিতে কোনো প্রতিবেশী দেশ অংশ নিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে যেসব দেশ যুক্ত হবে, তাদের স্বার্থও ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের আওতায় আসতে পারে।
শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের কর্মসূচি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবে ইরান। এরপরও কোনো দেশ ওয়াশিংটনের উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন হলে তেহরান ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
রেজাইয়ের বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিকভাবে যুক্ত দেশগুলোকেও গুরুতর পরিণতির মুখে পড়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ওয়াশিংটনের সঙ্গে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশকে চাপ দিচ্ছেন।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশলের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা নয়; বরং অর্থনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য দুর্বল করা। তেহরানের ধারণা, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপের কারণে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হলে সেটি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক চাপকেও সহজ করতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটির পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। সংঘাতের কারণে এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের কর্মসূচিতে যুক্ত হলে পারস্য উপসাগর থেকে তেল পরিবহনের বিকল্প পথও ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার আওতায় আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে তেহরানের বক্তব্যে একই সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিতও রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলমান ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতির অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সোমবার তেহরান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তেহরানের দাবি, অন্য দেশের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর নিজেদের আইন ও নীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক চাপ এবং তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো কী অবস্থান নেয় এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির বিষয়।
























