ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

গাজায় ৩১৫ দিনে ৪ হাজার ৩৭৯ ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ দাবি

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১১৫ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ৩১৫ দিনের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী ৪ হাজার ৩৭৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ২৫৭ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর বিভিন্ন ঘটনায় ১৮০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ৮১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর নিচে এখনো ৮ হাজারের বেশি মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি দপ্তর।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী গাজায় বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। তাদের হিসাবে, ৩১৫ দিনে ১ লাখ ৮৯ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও গাজায় ঢুকেছে ৬৬ হাজার ৬০৭টি ট্রাক। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রায় ৩৫ শতাংশ সহায়তা পৌঁছেছে।

মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মানুষের যাতায়াত নিয়েও সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ২৯ হাজার ৮০০ জনের চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ১১ হাজার ৭৫৯ জন সেই সুযোগ পেয়েছেন। এ হিসাবে নির্ধারিত যাতায়াতের প্রায় ৩৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

গাজার সরকারি দপ্তরের এই পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপত্যকাটিতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘও ২৪ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়েও গাজায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বেসামরিক মানুষ এখনো অনিশ্চিত ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস যুদ্ধবিরতির মধ্যেও চলমান হামলা, মানবিক সহায়তায় বাধা এবং মানুষের চলাচলে সীমাবদ্ধতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টারদের প্রতি যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি—জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উপত্যকাটির মানবিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

SEO Title: গাজায় যুদ্ধবিরতি: ৩১৫ দিনে ৪৩৭৯ লঙ্ঘনের দাবি, নিহত ১২৮৬ ফিলিস্তিনি

ট্যাগস :

গাজায় ৩১৫ দিনে ৪ হাজার ৩৭৯ ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ দাবি

আপডেট সময় : ০২:৪২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ৩১৫ দিনের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী ৪ হাজার ৩৭৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ২৫৭ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর বিভিন্ন ঘটনায় ১৮০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ৮১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর নিচে এখনো ৮ হাজারের বেশি মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি দপ্তর।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী গাজায় বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। তাদের হিসাবে, ৩১৫ দিনে ১ লাখ ৮৯ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও গাজায় ঢুকেছে ৬৬ হাজার ৬০৭টি ট্রাক। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রায় ৩৫ শতাংশ সহায়তা পৌঁছেছে।

মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মানুষের যাতায়াত নিয়েও সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ২৯ হাজার ৮০০ জনের চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ১১ হাজার ৭৫৯ জন সেই সুযোগ পেয়েছেন। এ হিসাবে নির্ধারিত যাতায়াতের প্রায় ৩৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

গাজার সরকারি দপ্তরের এই পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপত্যকাটিতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘও ২৪ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়েও গাজায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বেসামরিক মানুষ এখনো অনিশ্চিত ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস যুদ্ধবিরতির মধ্যেও চলমান হামলা, মানবিক সহায়তায় বাধা এবং মানুষের চলাচলে সীমাবদ্ধতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টারদের প্রতি যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি—জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উপত্যকাটির মানবিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

SEO Title: গাজায় যুদ্ধবিরতি: ৩১৫ দিনে ৪৩৭৯ লঙ্ঘনের দাবি, নিহত ১২৮৬ ফিলিস্তিনি