নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৫২ বার পঠিত

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্টাফ কোয়ার্টার মহল্লার চক এনায়েত মৌজায় কয়েক বিঘা জমির শ্রেণি পুকুর বা ডোবা দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে। এতে জমির প্রকৃত শ্রেণি গোপন করে রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকলে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় নওগাঁর আবাসন প্রকল্প পিপলস সিটির পরিচালক, চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট কাজী মো. আতিকুর রহমানের নাম উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে স্টাফ কোয়ার্টার মহল্লায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় পাঁচ বিঘা জমি বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে ডোবা বা পুকুর হিসেবে পরিচিত জমি ভরাটের কাজ চলছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেশ কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে ভারী যানবাহন দিয়ে মাটি ফেলার কাজ চলছে। এসব যানবাহনের বিকট শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, শিশুদের পড়াশোনা ও রাতের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে জমির কিছু অংশ প্লট আকারে কেনাবেচার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
অভিযোগের বিষয়ে পিপলস সিটির পরিচালক, চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট কাজী মো. আতিকুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, পৌরসভা থেকে অনাপত্তিপত্র (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও অনুমতি নেওয়া হবে।
নওগাঁ দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, খারিজ বা নামজারির তথ্য অনুযায়ী তাঁরা দলিল প্রস্তুত করেন। এখানে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, চক এনায়েত মৌজায় জমির শ্রেণি পুকুর হলে প্রতি কাঠার মূল্যায়ন সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে ভিটামাটি শ্রেণির জমির মূল্যায়ন প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা অবগত হয়েছেন। বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি এম মমিন বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পৌরসভা থেকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। তবে অনাপত্তিপত্রের সুযোগ নিয়ে কেউ জমির শ্রেণি পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সূত্র ও মৌজা মূল্যায়নের হিসাব অনুযায়ী, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কম মূল্যায়নে দলিল সম্পাদন করা হয়ে থাকলে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে জমির প্রকৃত শ্রেণি নির্ধারণ এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
















