- আপডেট সময় : ০৩:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পঠিত

দিল্লিতে বিরোধীদের মিছিল শুরু, পাল্টা কর্মসূচি বিজেপির ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। অন্যদিকে, কংগ্রেসকে আক্রমণ করে পাল্টা সমাবেশ করছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনিয়ম করছে নির্বাচন কমিশন। আর বিজেপি ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে আক্রমণ করছে।
এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে মধ্য দিল্লির ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছে। এতে উৎসবের মৌসুমে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বিরোধী জোটের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রামলীলা ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে তারা। সমাবেশস্থলের আশপাশে অনেক পাইকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় বিক্ষোভের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা।
সমাবেশে অংশ নিতে বিভিন্ন দল তাদের কর্মী-সমর্থকদের জড়ো করেছে। কংগ্রেস উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও হরিয়ানা থেকে কর্মীদের নিয়ে এসেছে। সমাজবাদী পার্টি ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলও নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে বিক্ষোভের বড় অংশের সংগঠক হিসেবে রয়েছে বামপন্থী দলগুলোর কর্মীরা।
কর্তৃপক্ষের অনুমতি অনুযায়ী, রামলীলা ময়দানের সমাবেশ বিকেল ৫টায় শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আকস্মিক কর্মসূচি নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র।
এর আগে শনিবার বিরোধীদের এক কর্মসূচিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ তুলে একটি প্রতীকী প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র করেছেন, ১৩ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, সংসদীয় তদারকি ছাড়াই ফরম-৬ পরিবর্তন করেছেন এবং ইসিনেটের মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছেন।
প্রস্তাবে আরও অভিযোগ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, বিরোধীদের মিছিল গণতন্ত্রের প্রতি অসম্মান এবং এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক নাটক। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জনগণ বিরোধীদের এই রাজনৈতিক নাটক বুঝতে পারছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, বিরোধীদের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিক্ষোভে সমর্থন দেওয়ায় তিনি মমতাকে ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি বলেন, সিজেপি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে এবং রোববার বিরোধীদের বিক্ষোভে যোগ দেবে না।
দিপকে বলেন, জন্তর মন্তরে তাদের প্রথম আন্দোলনের সময় মমতা যেভাবে তরুণদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সে জন্যই তিনি ধন্যবাদ জানাতে এসেছেন। দিল্লি পুলিশ যখন সৌরভ ও আশুতোষকে গ্রেপ্তার করেছিল, তখনো মমতা তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে ছিলেন বলে জানান তিনি।
বিক্ষোভ ও পাল্টা সমাবেশ ঘিরে দিল্লির মধ্য ও নতুন দিল্লি এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং দ্রুত পদক্ষেপকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। রামলীলা ময়দান ও মিন্টো সেতু থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন অন্তত চার হাজার সদস্য।
কনট প্লেস, জন্তর মন্তর, ভগবান দাস রোড, সুপ্রিম কোর্ট ও ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কয়েক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের আগেভাগে যাত্রাপথ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর জানান, পুরো এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আয়োজকদেরও নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকক্ষ রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আয়োজকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি













