ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তবু বাজেট ও কর্মী কমাচ্ছে ইউএনএইচসিআর Logo তিব্বতে ভয়াবহ কাদা ধস: ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশিসহ নিখোঁজ ৫৪৬ Logo বাংলাদেশে আর গুম ও ‘আয়নাঘরের’ স্থান হবে না: রাষ্ট্রপতি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভাও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান  Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা সভা Logo বড়ইয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ Logo পবিত্র ঈদে-মিলাদুন্নবী (সা:) উপলক্ষে মাছিয়াতা দরবার শরীফে তিনশতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী মহা সম্মেলন ও ৫৬ তম ওরশ মাহফিল সম্পন্ন Logo শালিস-থানা-এমপি মানল না’—গালুয়া বাজারে জমি জবরদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo আওয়ারাপন ২ বক্স অফিস: ২০০ কোটির দোরগোড়ায় ইমরান হাশমির সিনেমা

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তবু বাজেট ও কর্মী কমাচ্ছে ইউএনএইচসিআর

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পঠিত

বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কার মধ্যেই বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের পথে যাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি ২০২৭ সালের বাজেট ১৬ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী পদ কমানোর পরিকল্পনা করেছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের জন্য ইউএনএইচসিআরের বাজেট ৭১৪ কোটি ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটি সংস্থাটির সর্বনিম্ন বাজেট।

বিশ্বের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ অঞ্চলে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও বড় দাতাদের বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ইউএনএইচসিআরকে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশ তাদের বিদেশি সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় সংস্থাটির আর্থিক পরিস্থিতির ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় সংস্থার কার্যক্রম ও ব্যয়ের পরিধি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে এসেছে।

জেনিভায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ইউএনএইচসিআর সংশোধিত বাজেট ও কার্যক্রম পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।

তবে সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘোষিত সাড়ে তিন হাজার পদ কমানোর সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সমানসংখ্যক কর্মী সরাসরি চাকরি হারাবেন। কারণ আগে থেকেই অনুমোদিত বেশ কিছু পদ খালি রয়েছে এবং সেগুলোর অনেকগুলো পূরণ করা হয়নি।

২০২৫ সালের বড় ধরনের অর্থঘাটতির কারণে ইউএনএইচসিআর ইতোমধ্যে কর্মীসংখ্যা কমানোসহ বেশ কিছু ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকায় সংস্থার কিছু কার্যক্রম ও অফিস বন্ধ করা হয়েছে।

খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে জেনিভায় ইউএনএইচসিআরের সদর দপ্তরও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার একটি ভবনে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান বারহাম সালিহ মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএনএইচসিআরের অন্যতম বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির দেওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ কোটি ডলার। চলতি বছরে তা কমে মাত্র ১১ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শরণার্থী সহায়তা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বড় কাটছাঁটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আমেরিকা অঞ্চল, যেখানে বরাদ্দ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বাজেট কমছে প্রায় ২২ শতাংশ। এর প্রভাব বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সুদান সংকট মোকাবিলায় পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার জন্য নির্ধারিত অর্থও প্রায় ২১ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইউক্রেন ও সুদানে চলমান সংঘাতের কারণে ২০২৭ সালে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউএনএইচসিআরের বাজেট কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ও উগান্ডার মতো শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটটি আগামী অক্টোবর মাসে ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এরপর নতুন বাজেট ও ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তবু বাজেট ও কর্মী কমাচ্ছে ইউএনএইচসিআর

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কার মধ্যেই বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের পথে যাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি ২০২৭ সালের বাজেট ১৬ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী পদ কমানোর পরিকল্পনা করেছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের জন্য ইউএনএইচসিআরের বাজেট ৭১৪ কোটি ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটি সংস্থাটির সর্বনিম্ন বাজেট।

বিশ্বের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ অঞ্চলে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও বড় দাতাদের বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ইউএনএইচসিআরকে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশ তাদের বিদেশি সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় সংস্থাটির আর্থিক পরিস্থিতির ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় সংস্থার কার্যক্রম ও ব্যয়ের পরিধি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে এসেছে।

জেনিভায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ইউএনএইচসিআর সংশোধিত বাজেট ও কার্যক্রম পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।

তবে সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘোষিত সাড়ে তিন হাজার পদ কমানোর সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সমানসংখ্যক কর্মী সরাসরি চাকরি হারাবেন। কারণ আগে থেকেই অনুমোদিত বেশ কিছু পদ খালি রয়েছে এবং সেগুলোর অনেকগুলো পূরণ করা হয়নি।

২০২৫ সালের বড় ধরনের অর্থঘাটতির কারণে ইউএনএইচসিআর ইতোমধ্যে কর্মীসংখ্যা কমানোসহ বেশ কিছু ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকায় সংস্থার কিছু কার্যক্রম ও অফিস বন্ধ করা হয়েছে।

খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে জেনিভায় ইউএনএইচসিআরের সদর দপ্তরও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার একটি ভবনে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান বারহাম সালিহ মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএনএইচসিআরের অন্যতম বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির দেওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ কোটি ডলার। চলতি বছরে তা কমে মাত্র ১১ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শরণার্থী সহায়তা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বড় কাটছাঁটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আমেরিকা অঞ্চল, যেখানে বরাদ্দ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বাজেট কমছে প্রায় ২২ শতাংশ। এর প্রভাব বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সুদান সংকট মোকাবিলায় পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার জন্য নির্ধারিত অর্থও প্রায় ২১ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইউক্রেন ও সুদানে চলমান সংঘাতের কারণে ২০২৭ সালে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউএনএইচসিআরের বাজেট কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ও উগান্ডার মতো শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটটি আগামী অক্টোবর মাসে ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এরপর নতুন বাজেট ও ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

সূত্র: রয়টার্স