ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি সড়ক বিভাগের শ্রদ্ধা নিবেদন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি গণপূর্ত বিভাগের শ্রদ্ধা নিবেদন Logo জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  শুভেচ্ছা। Logo মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার, ইসির হাতে ভোটার তালিকা; শিগগির তফসিল Logo ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলের Logo ধামরাইয়ে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত Logo যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Logo ২৪০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের কিউডি-ওএলইডি মনিটর আনলো গিগাবাইট

রেজা কিবরিয়া ও নূর এর দ্বন্দ্ব কোন পথে?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩ ২১১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে নুরুল হক নুরের সঙ্গে রেজা কিবরিয়ার বিরোধ চলছে। গণমাধ্যমে কে হবেন দলের মূল ভোকাল- এরকম আলোচনার মধ্যেই নানাবিধ প্রসঙ্গ তাদের বিরোধ আরও তুঙ্গে নিয়ে যায়।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হকের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে দলে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতির ঘটনা ঘটেছে। নুরুল হক ও তার সমমনারা রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে মো. রাশেদ খানকে দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করেছেন। বিনিময়ে রেজা কিবরিয়া নুরুল হক ও রাশেদকে দলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে দলের নতুন সদস্য সচিব ঘোষণা করেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া নুরুল হক ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নুরুল ও তার সমমনা ব্যক্তিরা ২০২১ সালের অক্টোবরে গণঅধিকার পরিষদ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণফোরাম ছেড়ে আসা রেজা কিবরিয়াকে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দল পরিচালনা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে নুরুল হকের বিরোধ চলছিল। তারা একে অপরকে অভিযুক্ত করে বিবৃতি দিয়েছেন। দুজনে নিজ নিজ ফেসবুক পেজে পোস্ট করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

দুই নেতার বিরোধের জেরে দলে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় গত রোববার ঢাকায় রেজা কিবরিয়ার বাসায় বৈঠক করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। ওই বৈঠকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে উত্তেজনা ছিল বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। সূত্র জানায়, বৈঠকে রেজা কিবরিয়া দলের সদস্য সচিব নুরুল হকের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ তোলেন। এ ছাড়া দলের তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রেজা কিবরিয়া।

অন্যদিকে, নুরুল হক পাল্টা বলেন, তাদের দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া অনেক দিন ধরেই ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ইনসাফ কায়েম কমিটির কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। সে জন্য টাকা পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ নুরুল হকের। এ ছাড়া দলের কর্মকাণ্ডে সময় না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে।

ওই বৈঠকের পরদিন ১৯ জুন সোমবার রেজা কিবরিয়া বিদেশে যান। এদিকে সোমবার রাতে নুরুল হকের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়।

গণঅধিকার পরিষদের প্যাডে রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নুরুল হককে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও রাশেদ খানকে যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মঙ্গলবার (২০ জুন) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দেন নুর। স্ট্যাটাসে নুর লেখেন, রেজা কিবরিয়া গণঅধিকার পরিষদের ২১ জনকেও ভালোভাবে চেনেন না, নামও বলতে পারবেন না। ৫৪ জেলা কমিটির ১০ জনকেও চেনেন কিনা সন্দেহ!

তিনি আরও বলেন, গত আড়াই বছরে রেজা কিবরিয়া প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ টাকাও খরচ করেননি, ২০টি কর্মসূচিতেও ছিলেন না। গণঅধিকার পরিষদ কিংবা গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ, পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গঠনে রেজা কিবরিয়ার কোনো ভূমিকাও নাই। সবকিছু গুছিয়ে আমরাই তাকে একটা গোছানো প্ল্যাটফর্মে এনেছিলাম। তিনি সে সম্মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। সুতরাং গণঅধিকার পরিষদের সংগঠকদের কাউকে বহিষ্কার করা বা গণঅধিকার পরিষদকে বিভক্ত করার যোগ্যতা রেজা কিবরিয়া রাখেন না।

রেজা কিবরিয়ার মনোনীত সদস্যসচিব হাসান আল মামুন জানান,‘রেজা কিবরিয়া ভাই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আমি মনে করি, সংগঠনের সবাই মিলে বসে সেটির সমাধান করা উচিত।’

রেজা কিবরিয়া বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

রেজা কিবরিয়া ও নূর এর দ্বন্দ্ব কোন পথে?

আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে নুরুল হক নুরের সঙ্গে রেজা কিবরিয়ার বিরোধ চলছে। গণমাধ্যমে কে হবেন দলের মূল ভোকাল- এরকম আলোচনার মধ্যেই নানাবিধ প্রসঙ্গ তাদের বিরোধ আরও তুঙ্গে নিয়ে যায়।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হকের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে দলে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতির ঘটনা ঘটেছে। নুরুল হক ও তার সমমনারা রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে মো. রাশেদ খানকে দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করেছেন। বিনিময়ে রেজা কিবরিয়া নুরুল হক ও রাশেদকে দলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে দলের নতুন সদস্য সচিব ঘোষণা করেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া নুরুল হক ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নুরুল ও তার সমমনা ব্যক্তিরা ২০২১ সালের অক্টোবরে গণঅধিকার পরিষদ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণফোরাম ছেড়ে আসা রেজা কিবরিয়াকে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দল পরিচালনা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে নুরুল হকের বিরোধ চলছিল। তারা একে অপরকে অভিযুক্ত করে বিবৃতি দিয়েছেন। দুজনে নিজ নিজ ফেসবুক পেজে পোস্ট করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

দুই নেতার বিরোধের জেরে দলে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় গত রোববার ঢাকায় রেজা কিবরিয়ার বাসায় বৈঠক করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। ওই বৈঠকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে উত্তেজনা ছিল বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। সূত্র জানায়, বৈঠকে রেজা কিবরিয়া দলের সদস্য সচিব নুরুল হকের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ তোলেন। এ ছাড়া দলের তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রেজা কিবরিয়া।

অন্যদিকে, নুরুল হক পাল্টা বলেন, তাদের দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া অনেক দিন ধরেই ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ইনসাফ কায়েম কমিটির কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। সে জন্য টাকা পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ নুরুল হকের। এ ছাড়া দলের কর্মকাণ্ডে সময় না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে।

ওই বৈঠকের পরদিন ১৯ জুন সোমবার রেজা কিবরিয়া বিদেশে যান। এদিকে সোমবার রাতে নুরুল হকের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়।

গণঅধিকার পরিষদের প্যাডে রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নুরুল হককে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও রাশেদ খানকে যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মঙ্গলবার (২০ জুন) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দেন নুর। স্ট্যাটাসে নুর লেখেন, রেজা কিবরিয়া গণঅধিকার পরিষদের ২১ জনকেও ভালোভাবে চেনেন না, নামও বলতে পারবেন না। ৫৪ জেলা কমিটির ১০ জনকেও চেনেন কিনা সন্দেহ!

তিনি আরও বলেন, গত আড়াই বছরে রেজা কিবরিয়া প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ টাকাও খরচ করেননি, ২০টি কর্মসূচিতেও ছিলেন না। গণঅধিকার পরিষদ কিংবা গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ, পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গঠনে রেজা কিবরিয়ার কোনো ভূমিকাও নাই। সবকিছু গুছিয়ে আমরাই তাকে একটা গোছানো প্ল্যাটফর্মে এনেছিলাম। তিনি সে সম্মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। সুতরাং গণঅধিকার পরিষদের সংগঠকদের কাউকে বহিষ্কার করা বা গণঅধিকার পরিষদকে বিভক্ত করার যোগ্যতা রেজা কিবরিয়া রাখেন না।

রেজা কিবরিয়ার মনোনীত সদস্যসচিব হাসান আল মামুন জানান,‘রেজা কিবরিয়া ভাই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আমি মনে করি, সংগঠনের সবাই মিলে বসে সেটির সমাধান করা উচিত।’

রেজা কিবরিয়া বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।