নাহিদ ইসলাম দুর্নীতিতে জড়িত না হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ: রাশেদ খাঁন
- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৩ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ।।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তিনি নৈতিকভাবে দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ চেয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নাও থাকতে পারেন, তবে তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন সদস্য এবং সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তিনি আরও দাবি করেন, নাহিদ ইসলামের সাবেক পিও আতিক মোর্শেদকে ঘিরেও নানা অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজস্ব বলয়ের লোকজনকে বসানো এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অন্য মন্ত্রণালয়ের রদবদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলেন তিনি। পরবর্তীতে এসব ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, নাহিদ ইসলাম নিজেই একসময় জানিয়েছিলেন যে, কয়েকজন উপদেষ্টার ওপর আস্থা রেখে পরে প্রতারিত হয়েছেন। বর্তমানে ওই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। যেহেতু নাহিদ ইসলাম তাদের নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই এসব ঘটনার দায় তারও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁন আরও প্রশ্ন তোলেন, এনসিপিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া ধনী ব্যক্তিরা আসলে কারা এবং তারা কী উদ্দেশ্যে দলটিকে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে শেখ বশির উদ্দিনকে বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এনসিপি গঠন করা নাহিদ ইসলামের একটি বড় ধরনের নৈতিক ভুল। এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে উল্লেখযোগ্য সংস্কার না হওয়া এবং অতীতের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার আগে যাকে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তার সময় শেখ হাসিনা সরকারের সময়কার আইন ব্যবহার করে দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যার দায়ও নাহিদ ইসলাম এড়াতে পারেন না। সবশেষে তিনি বলেন, বিচার, সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে যোগ দিলেও সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করেই নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। তাই তিনি সরাসরি দুর্নীতিতে জড়িত না থাকলেও নৈতিক দায় থেকে মুক্ত নন।

























