ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী Logo মিশিগানে ইতিহাস গড়ে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল–সাইদ Logo মজুরি বোর্ড – ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হবে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো Logo ভিভো ভি৮০-এর রং, ডিজাইন ও ক্যামেরায় মুগ্ধ হবে সবাই! Logo স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার মানসিকতাই দুর্নীতির মূল উৎস: হাসনাত আবদুল্লাহ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৩৩১ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। সোমবার ।। ১১ মে ২০২৬ ।।

পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির জন্য দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে ‘ম্যানেজ’ করে চলার যে সামাজিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেখান থেকেই দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, গুরুতর অপরাধের তদন্ত পরিচালনার জন্য যে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা বাস্তব চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যা বা ডাকাতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে মাত্র ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থ পাচারের মামলার তদন্তেও বরাদ্দ থাকে মাত্র ৩ হাজার টাকা। এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত কর্মকর্তাদের অনেক সময় ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই আর্থিক সংকটের কারণেই মাঠপর্যায়ের অনেক সদস্য অনৈতিক উপায়ে অর্থ সংগ্রহে প্ররোচিত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, অন্যান্য সরকারি চাকরিতে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওভারটাইম চালুর আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তার মতে, পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসম্মত খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

পুলিশের পেশাগত স্বাধীনতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আইনবহির্ভূত কোনো নির্দেশ এলে পুলিশ সদস্যদের তা প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা পুলিশের কর্তব্য হলেও, আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বেআইনি নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ সদস্যরা যাতে কোনো ধরনের চাপ বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য আইনি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদায়ন ও পদোন্নতির দাবি জানান।

সবশেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার ও সংসদ পুলিশ বাহিনীর স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগ্রহী হলেও, পুলিশ সদস্যরা নিজেরা সেই স্বাধীন ও পেশাদার অবস্থানে পৌঁছাতে মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত।

ট্যাগস :

পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার মানসিকতাই দুর্নীতির মূল উৎস: হাসনাত আবদুল্লাহ

আপডেট সময় : ০৭:০১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। সোমবার ।। ১১ মে ২০২৬ ।।

পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির জন্য দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে ‘ম্যানেজ’ করে চলার যে সামাজিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেখান থেকেই দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, গুরুতর অপরাধের তদন্ত পরিচালনার জন্য যে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা বাস্তব চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যা বা ডাকাতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে মাত্র ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থ পাচারের মামলার তদন্তেও বরাদ্দ থাকে মাত্র ৩ হাজার টাকা। এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত কর্মকর্তাদের অনেক সময় ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই আর্থিক সংকটের কারণেই মাঠপর্যায়ের অনেক সদস্য অনৈতিক উপায়ে অর্থ সংগ্রহে প্ররোচিত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, অন্যান্য সরকারি চাকরিতে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওভারটাইম চালুর আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তার মতে, পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসম্মত খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

পুলিশের পেশাগত স্বাধীনতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আইনবহির্ভূত কোনো নির্দেশ এলে পুলিশ সদস্যদের তা প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা পুলিশের কর্তব্য হলেও, আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বেআইনি নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ সদস্যরা যাতে কোনো ধরনের চাপ বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য আইনি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদায়ন ও পদোন্নতির দাবি জানান।

সবশেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার ও সংসদ পুলিশ বাহিনীর স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগ্রহী হলেও, পুলিশ সদস্যরা নিজেরা সেই স্বাধীন ও পেশাদার অবস্থানে পৌঁছাতে মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত।