ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৬০ লাখ ডলারে গয়না লুটের মামলায় মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান Logo ভেজা আউটফিল্ডে ম্যাচ পরিত্যক্ত, না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ Logo পরাজয় ঢাকতে হলিউডি সিনেমার মতো গল্প তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি Logo ফার্নিচারসহ ব্যয়বহুল পণ্য আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ Logo ৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা Logo রাজাপুরে রফিকুল ইসলাম জামালকে গণসংবর্ধনা Logo চল্লিশ কাহনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হলেন ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ Logo গাজীপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ Logo জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন বিএম কলেজের দুই শিক্ষার্থী Logo গৌরনদীর দুই যুবক মাদকসহ বরিশালে আটক

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে কমছে ইলিশ, বলছেন গবেষকরা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ১৩৮ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। মঙ্গলবার ।। ১২ মে ২০২৬ ।।

বৃষ্টি বাড়লেও ভোলার Meghna River ও Tetulia River-এ মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। এতে চরম সংকটে পড়েছেন জেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে। নদীতে ইলিশের দেখা না মেলায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছের বাজারেও। ক্রেতারা বাজারে গিয়েও ইলিশ না পেয়ে ফিরছেন খালি হাতে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোলার সাতটি উপজেলার অসংখ্য মানুষ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সরকারি হিসাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ মে থেকে আবার নদীতে মাছ ধরা শুরু করেন জেলেরা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন তারা। ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারাদিন নদীতে জাল ফেলেও ইলিশের দেখা মিলছে না। কাচিয়া ইউনিয়নের জেলে মো. সৈয়দ মাঝি ও মো. মনির হোসেন মাঝি জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা নদীতে জাল ফেলেও তারা একটিও ইলিশ পাননি। পরিবর্তে কিছু বাটা ও তাপসী মাছ পেয়ে তা বিক্রি করে মাত্র কয়েকশ টাকা আয় হয়েছে। দীর্ঘদিন মাছ ধরার অভিজ্ঞতায় এমন সংকট তারা আগে দেখেননি বলে জানান। একই ধরনের হতাশার কথা জানান তুলাতুলি এলাকার জেলে শাজাহান মাঝি ও মজনু মাঝি। তাদের ভাষ্য, সাধারণত বর্ষা শুরু হলেই নদীতে ইলিশ ধরা পড়ে। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেও জালে ইলিশ উঠছে না। এমন পরিস্থিতি অতীতে কখনো দেখেননি তারা। নিষেধাজ্ঞার সময় ধারদেনা করে সংসার চালানো জেলেরা এখন নতুন করে আর্থিক চাপে পড়েছেন। ভোলার খাল এলাকার জেলে রাসেল মাঝি ও নজরুল মাঝি বলেন, কয়েকদিন ধরে নদীতে গেলেও ইলিশ না পাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। এনজিওর কিস্তিও পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। ভেদুরিয়ার হাজির হাট এলাকার কয়েকজন জেলে জানান, ইলিশের সংকটের কারণে অনেকে এখন আর নদীতে যাচ্ছেন না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে জেলে পেশা ছেড়ে দিনমজুরির কাজ করছেন। নদীতে ইলিশ না থাকায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। ভোলা শহরের কিচেন মার্কেটের ক্রেতারা জানান, বাজারে খুব অল্প পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে এবং দামও অনেক বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে জনপ্রিয় এই মাছ। মাছ বিক্রেতারাও পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঘাটে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় পাইকাররা বেশি দামে মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাজারের বিক্রেতারা সেই দামে মাছ কিনে বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বাজারে এখন ছোট মাছের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, আগে ৫০০ গ্রামের একটি ইলিশ যেখানে এক হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হতো, এখন সেটির দাম দুই হাজার টাকারও বেশি। একইভাবে ছোট আকারের ইলিশ ও জাটকার দামও কয়েকগুণ বেড়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ এখন বিক্রি হচ্ছে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কমে গেছে। তবে বৃষ্টিপাত আরও বাড়লে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান জানান, সাধারণত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান মৌসুম। তবে মে-জুনে বৃষ্টিপাত থাকলে নদীতে ইলিশের বিচরণ দেখা যায়। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এখন ইলিশের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ গবেষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ইলিশ সম্পদ আরও বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি জাটকা ও মা ইলিশ নিধনও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে কমছে ইলিশ, বলছেন গবেষকরা

আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। মঙ্গলবার ।। ১২ মে ২০২৬ ।।

বৃষ্টি বাড়লেও ভোলার Meghna River ও Tetulia River-এ মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। এতে চরম সংকটে পড়েছেন জেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে। নদীতে ইলিশের দেখা না মেলায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছের বাজারেও। ক্রেতারা বাজারে গিয়েও ইলিশ না পেয়ে ফিরছেন খালি হাতে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোলার সাতটি উপজেলার অসংখ্য মানুষ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সরকারি হিসাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ মে থেকে আবার নদীতে মাছ ধরা শুরু করেন জেলেরা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন তারা। ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারাদিন নদীতে জাল ফেলেও ইলিশের দেখা মিলছে না। কাচিয়া ইউনিয়নের জেলে মো. সৈয়দ মাঝি ও মো. মনির হোসেন মাঝি জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা নদীতে জাল ফেলেও তারা একটিও ইলিশ পাননি। পরিবর্তে কিছু বাটা ও তাপসী মাছ পেয়ে তা বিক্রি করে মাত্র কয়েকশ টাকা আয় হয়েছে। দীর্ঘদিন মাছ ধরার অভিজ্ঞতায় এমন সংকট তারা আগে দেখেননি বলে জানান। একই ধরনের হতাশার কথা জানান তুলাতুলি এলাকার জেলে শাজাহান মাঝি ও মজনু মাঝি। তাদের ভাষ্য, সাধারণত বর্ষা শুরু হলেই নদীতে ইলিশ ধরা পড়ে। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেও জালে ইলিশ উঠছে না। এমন পরিস্থিতি অতীতে কখনো দেখেননি তারা। নিষেধাজ্ঞার সময় ধারদেনা করে সংসার চালানো জেলেরা এখন নতুন করে আর্থিক চাপে পড়েছেন। ভোলার খাল এলাকার জেলে রাসেল মাঝি ও নজরুল মাঝি বলেন, কয়েকদিন ধরে নদীতে গেলেও ইলিশ না পাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। এনজিওর কিস্তিও পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। ভেদুরিয়ার হাজির হাট এলাকার কয়েকজন জেলে জানান, ইলিশের সংকটের কারণে অনেকে এখন আর নদীতে যাচ্ছেন না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে জেলে পেশা ছেড়ে দিনমজুরির কাজ করছেন। নদীতে ইলিশ না থাকায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। ভোলা শহরের কিচেন মার্কেটের ক্রেতারা জানান, বাজারে খুব অল্প পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে এবং দামও অনেক বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে জনপ্রিয় এই মাছ। মাছ বিক্রেতারাও পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঘাটে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় পাইকাররা বেশি দামে মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাজারের বিক্রেতারা সেই দামে মাছ কিনে বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বাজারে এখন ছোট মাছের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, আগে ৫০০ গ্রামের একটি ইলিশ যেখানে এক হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হতো, এখন সেটির দাম দুই হাজার টাকারও বেশি। একইভাবে ছোট আকারের ইলিশ ও জাটকার দামও কয়েকগুণ বেড়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ এখন বিক্রি হচ্ছে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কমে গেছে। তবে বৃষ্টিপাত আরও বাড়লে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান জানান, সাধারণত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান মৌসুম। তবে মে-জুনে বৃষ্টিপাত থাকলে নদীতে ইলিশের বিচরণ দেখা যায়। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এখন ইলিশের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ গবেষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ইলিশ সম্পদ আরও বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি জাটকা ও মা ইলিশ নিধনও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।