ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজীপুরে জিয়াউর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন Logo গাজীপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদ Logo সাবেক এমপি হারুন আল রশিদের মৃত্যুতে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শোক  Logo বেনজীরকে ফেরাতে সব নথি পাঠানো হয়েছে, দ্রুত প্রত্যর্পণের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo একটি কোম্পানির মাধ্যমে সকল রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী Logo বটতলায় জমজমাট ফাইনাল: চ্যাম্পিয়ান ভাতকাঠি একতা ফাউন্ডেশন। Logo সুন্দরগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ Logo অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশুর Logo জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাংবাদিকদের সাজা চান এসপি

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ২৩১ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার প্রতিনিধি:

ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে সাংবাদিকদের সাজা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) রহমত উল্লাহ। একই সঙ্গে প্রেসক্লাব সভাপতিকে সাংবাদিকদের ছবিসহ তালিকা দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। প্রেসক্লাবের বাইরে যারা থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে এই মন্তব্য করেন জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ।

ঐ সভায় পুলিশ সুপারের বক্তব্যের একটি অংশ ছিল: “কে সাংবাদিক আমরা জানি। ধরুন, আমি এখানে কালের কণ্ঠ পত্রিকার (উদাহরণস্বরূপ) সাংবাদিক। একটি জাতীয় পত্রিকার জেলায় সর্বোচ্চ ১ জন অথবা ২ জন প্রতিনিধি থাকবে। কিন্তু কেউ যদি ইউনিয়ন পর্যায়ের কালের কণ্ঠ (উদাহরণস্বরূপ) প্রতিনিধি পরিচয় দেয়, তাহলে এভাবে পুরো জেলায় একশ থেকে দুইশ সাংবাদিক হয়ে যাবে।।তিনি আরও বলেন,”চিন্তা করতে হবে ঢাকা জেলা কেন্দ্রীক কতজন সাংবাদিক কাজ করে। এখন একজন সাংবাদিক যার শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, সেও সম্পাদক হয়ে গেছে। আমি সাংবাদিক হওয়ার জন্য আমার লেখাপড়ার যোগ্যতা না থাকা মানা যেতে পারে। কিন্তু একজন এডিটর বা চিফ এডিটর অবশ্যই যোগ্য হতে হবে। একটি সংবাদপত্রের অনুমোদন পেতেও নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড ফলো করতে হয়। যেমন, ওষুধের দোকান চালাতে হলে ফার্মাসিস্ট লাইসেন্স লাগে। এই বিষয়টি আমরা প্রেসক্লাব সভাপতি বা রিপোর্টার্স ইউনিটি অথবা জেলা প্রেসক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করে তালিকার বাইরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি। তাদের ধরে আইনের আওতায় আনা যায়। অথবা সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দেওয়া যায়।”তিনি কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন,”আমরা একটা তালিকা করি, মাহবুব ভাই। এটা কি সম্ভব?”
সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া, এসপির এমন বক্তব্যে কক্সবাজার জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা ফুঁসে উঠেছেন। কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদের সভাপতি এম এ আজিজ রাসেল বলেন, “আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে সাংবাদিকদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ সুপার। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে মূলধারার সাংবাদিকেরা মর্মাহত।

ট্যাগস :

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাংবাদিকদের সাজা চান এসপি

আপডেট সময় : ০৩:৫০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার প্রতিনিধি:

ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে সাংবাদিকদের সাজা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) রহমত উল্লাহ। একই সঙ্গে প্রেসক্লাব সভাপতিকে সাংবাদিকদের ছবিসহ তালিকা দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। প্রেসক্লাবের বাইরে যারা থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে এই মন্তব্য করেন জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ।

ঐ সভায় পুলিশ সুপারের বক্তব্যের একটি অংশ ছিল: “কে সাংবাদিক আমরা জানি। ধরুন, আমি এখানে কালের কণ্ঠ পত্রিকার (উদাহরণস্বরূপ) সাংবাদিক। একটি জাতীয় পত্রিকার জেলায় সর্বোচ্চ ১ জন অথবা ২ জন প্রতিনিধি থাকবে। কিন্তু কেউ যদি ইউনিয়ন পর্যায়ের কালের কণ্ঠ (উদাহরণস্বরূপ) প্রতিনিধি পরিচয় দেয়, তাহলে এভাবে পুরো জেলায় একশ থেকে দুইশ সাংবাদিক হয়ে যাবে।।তিনি আরও বলেন,”চিন্তা করতে হবে ঢাকা জেলা কেন্দ্রীক কতজন সাংবাদিক কাজ করে। এখন একজন সাংবাদিক যার শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, সেও সম্পাদক হয়ে গেছে। আমি সাংবাদিক হওয়ার জন্য আমার লেখাপড়ার যোগ্যতা না থাকা মানা যেতে পারে। কিন্তু একজন এডিটর বা চিফ এডিটর অবশ্যই যোগ্য হতে হবে। একটি সংবাদপত্রের অনুমোদন পেতেও নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড ফলো করতে হয়। যেমন, ওষুধের দোকান চালাতে হলে ফার্মাসিস্ট লাইসেন্স লাগে। এই বিষয়টি আমরা প্রেসক্লাব সভাপতি বা রিপোর্টার্স ইউনিটি অথবা জেলা প্রেসক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করে তালিকার বাইরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি। তাদের ধরে আইনের আওতায় আনা যায়। অথবা সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দেওয়া যায়।”তিনি কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন,”আমরা একটা তালিকা করি, মাহবুব ভাই। এটা কি সম্ভব?”
সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া, এসপির এমন বক্তব্যে কক্সবাজার জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা ফুঁসে উঠেছেন। কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদের সভাপতি এম এ আজিজ রাসেল বলেন, “আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে সাংবাদিকদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ সুপার। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে মূলধারার সাংবাদিকেরা মর্মাহত।