ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি সড়ক বিভাগের শ্রদ্ধা নিবেদন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি গণপূর্ত বিভাগের শ্রদ্ধা নিবেদন Logo জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  শুভেচ্ছা। Logo মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার, ইসির হাতে ভোটার তালিকা; শিগগির তফসিল Logo ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলের Logo ধামরাইয়ে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত Logo যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Logo ২৪০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের কিউডি-ওএলইডি মনিটর আনলো গিগাবাইট

মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পঠিত

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করেছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স পাঁচটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার হুমকি দেওয়ার পর থেকেই তেহরান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও আলোচনা করেন। এসব বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা ওয়াশিংটনের ওপর কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নতুন সামরিক অভিযান ঠেকানোর চেষ্টা করে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, আরাঘচি আলোচনায় সতর্ক করে বলেন, ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো ইরানের পাল্টা হামলার আওতায় আসতে পারে।

রয়টার্সের উদ্ধৃত এক ইরানি কর্মকর্তার দাবি, সম্ভাব্য সংঘাত শুরু হলে শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বিদ্যুৎ গ্রিড, তেল শোধনাগার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং তেলক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, ইরানের এই সতর্কবার্তার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। একই সঙ্গে কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের সঙ্গে নতুন করে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছে।

তবে সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা হলে তার জবাবে প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থানের পেছনে ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলার অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওই ঘটনায় দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের বড় একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।

তেহরানের ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন বার্তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, গত ২ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হলে তিনি ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে প্রস্তুত।

তবে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এখনো বড় বাধা রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নয়, যা ইরান নিজেদের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। ফলে তেহরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—একদিকে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করা, অন্যদিকে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যেখানে কোনো পক্ষই নিজেদের পূর্ণ বিজয় দাবি করতে পারবে না।

ট্যাগস :

মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেট সময় : ০৬:২৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করেছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স পাঁচটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার হুমকি দেওয়ার পর থেকেই তেহরান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও আলোচনা করেন। এসব বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা ওয়াশিংটনের ওপর কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নতুন সামরিক অভিযান ঠেকানোর চেষ্টা করে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, আরাঘচি আলোচনায় সতর্ক করে বলেন, ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো ইরানের পাল্টা হামলার আওতায় আসতে পারে।

রয়টার্সের উদ্ধৃত এক ইরানি কর্মকর্তার দাবি, সম্ভাব্য সংঘাত শুরু হলে শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বিদ্যুৎ গ্রিড, তেল শোধনাগার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং তেলক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, ইরানের এই সতর্কবার্তার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। একই সঙ্গে কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের সঙ্গে নতুন করে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছে।

তবে সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা হলে তার জবাবে প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থানের পেছনে ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলার অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওই ঘটনায় দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের বড় একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।

তেহরানের ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন বার্তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, গত ২ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হলে তিনি ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে প্রস্তুত।

তবে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এখনো বড় বাধা রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নয়, যা ইরান নিজেদের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। ফলে তেহরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—একদিকে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করা, অন্যদিকে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যেখানে কোনো পক্ষই নিজেদের পূর্ণ বিজয় দাবি করতে পারবে না।