আসামের ভয়াবহ বন্যা: মৃত ৮২, প্রায় দুই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি
- আপডেট সময় : ০৫:২২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পঠিত

ভারতের আসামে চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের পাঁচটি জেলায় এখনো বন্যার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে এবং প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শনিবার (১ আগস্ট) রাজ্য প্রশাসনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে রয়েছে শিবসাগর, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও ও চরাইদেও। যদিও গত কয়েক দিনের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও বহু মানুষ এখনো নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে পারেননি।
ইন্ডিয়া টুডে–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় রাজ্য সরকার একাধিক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, গবাদিপশু ও অন্যান্য সম্পদের বীমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের স্বস্তি দিতে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফসি) কাছে ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে গোলাঘাট, শিবসাগর ও নুমালিগড় এলাকায় দিখৌ ও ধানসিরি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ ৫৪টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ২৬টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার ৩৮৪ জনের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ শিবসাগর ও চরাইদেও জেলা থেকে নতুন করে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যজুড়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৯ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরাইদেও জেলায়, যেখানে ৭৭ হাজার ৪৫৬ জন বন্যার শিকার হয়েছেন। শিবসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ৪৯২ জন এবং জোরহাট জেলায় এই সংখ্যা ৩৪ হাজার ৬৭ জন।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দ্রুত নিশ্চিত করতে আগামী ৫ আগস্ট সরকারি ও বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে রাজ্য সরকার। একই দিনে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট ও গোলাঘাট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধে সাময়িক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হবে।















