ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় “গ্রাম আদালত কার্যক্রম” সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরীতে সমন্বয় সভা
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৮ বার পঠিত

মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩ পর্যায় প্রকল্পের আওতায় “গ্রাম আদালত কার্যক্রম” সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরীতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ। স্থানীয় সরকার বিভাগ,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক (উপসচিব) শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন গ্রাম আদালতের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মনোরঞ্জন সূত্র ধর। বক্তব্যে বলা হয়, গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কতিপয় ফৌজধারী ও দেওয়ানী বিরোধের সহজ ও দ্রæত নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। গ্রাম আদালত অনধিত ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের ফৌজধারী ও দেওয়ানী বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। গ্রাম আদালতে আইনজীবী নিয়োগের বিধান নেই। একজন চেয়ারম্যান এবং উভয়পক্ষে (আবেদনকারী ও প্রতিবাদী) কর্তৃক মনোনীত ২জন করে মোট ৫জন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হবে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান/ ইউনিয়ন পরিষদের অন্য কোন সদস্য গ্রাম আদালতে দায়িত্ব পালন করবেন। নারী সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রাম আদালতে প্যানেল সদস্য হিসেবে নারীর অংশ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সমন্বয় সভায় বলা হয়, গ্রাম আদালত হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ বা বিবাদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা যা ন্যায্য বিচার লাভে সহায়তা করে। গ্রাম আদালতে সবাই অল্প সময়ে স্বল্প খরচে এবং অতি সহজে প্রতিকার পায়। গ্রাম আদালতে আবেদনপত্রের ফি ছাড়া অন্য কোন খরচ নেই। গ্রাম আদালত উচ্চতর আদালতের মামলার জট কমাতে সাহয্য করে। সভায় বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলার ১০১ টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত ১৯৭২ টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে ১৮৫২ টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়। এই মামলাগুলো থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদ বলেন, গ্রাম আদালত হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ বা বিবাদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, যা ন্যায্য বিচার লাভে সহায়তা করে। গ্রাম আদালতে সবাই অল্প সময়ে স্বল্প খরচে এবং অতি সহজে প্রতিকার পায়। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনগনকে আরো সচেতন করতে হবে। এজন্য এর প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতে কি কি সুবিধা পাওয়া যায় তা জনগনকে বুঝাতে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন ও জনবহুল এলাকায় বিলবোর্ড টানাতে হবে। বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক করে গ্রাম আদালতের সুফল সম্পর্কে জনগনকে বুঝাতে হবে। সভায় গ্রাম আদালতের ডিস্ট্রিক ম্যানেজার মোঃ মিরাজুল ইসলাম, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাগন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


















