প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান-পদায়নে সুখবর
- আপডেট সময় : ০৫:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পঠিত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানোর আদেশ অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যেই তাদের যোগদান করানোর পথে আর কোনো বাধা থাকলো না। পাশাপাশি যোগদানের পরপরই তাদের পদায়ন নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের দুজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকদের যোগদানপত্র স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর বিষয়টির প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ (বৃহস্পতিবার) এতে সই করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ অধিদপ্তরে এলে আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশনা দেবো।’
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে যোগদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে অধিদপ্তরের। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আশা করি, ১ অক্টোবরের মধ্যেই সব সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক যোগদানপত্র হাতে পাবেন। এরপর তাদের পদায়ন করা হবে।
নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আগে ক্লাসে নয়
এদিকে যোগদানের পর সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে। তবে তারা পদায়ন পেলেও ক্লাসে অংশ নেবেন না। নতুন এসব সহকারী শিক্ষক যোগদানের পর প্রশিক্ষণে যাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণের আগে নতুন শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত। দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন। তার আগে তাদের ক্লাসে পাঠানো হবে না, এটা উচিতও হবে না।
প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ না হলে কি কেউ বাদ পড়বেন?
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ পরীক্ষা কিছুটা তড়িঘড়ি নেওয়া হয়। বিএনপি সরকার এসে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনেক ব্রিফিং ও অনুষ্ঠানে এ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও তাড়াহুড়ো নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
পরে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান করানোর শর্ত হিসাবে প্রশিক্ষণে পাস করার কথাও বলেন মন্ত্রী। তবে এখন সেই কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের মূল্যায়ন থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করা নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, ‘প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ না হতে পারলে কারও নিয়োগ বাতিল হবে বলে আমি মনে করি না। তবে এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত করা হবে কি না, তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।’
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ১ অক্টোবরের মধ্যেই যোগদান ও পদায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।





















