ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার আটক
- আপডেট সময় : ০৩:০৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে দেশটিতে এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যা আইসিইর ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের সংখ্যা।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও আইসিইর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড ছিল জুনে। সে সময় প্রায় ৪৩ হাজার মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। ফলে পরপর দুই মাসে আটকের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও কঠোর করেছে। বৈধ নথিপত্র ছাড়া দেশটিতে অবস্থানকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের লক্ষ্যেই বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জর্জিয়ায় চালানো একটি বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি গত মাসে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকেও ৩০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, শুধু আটকের সংখ্যাই নয়, বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। ডিএইচএসের জুনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে তখন পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযানকে অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ডিএইচএসের বক্তব্য অনুযায়ী, জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়াই অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন দাবি করেছেন, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। তার মতে, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করা সম্ভব।
তবে সরকারের এই কঠোর অভিযান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের সবাই অপরাধে জড়িত নন। কিছু ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিও আটক হয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। এমনকি কারও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি কিংবা বৈধ প্যারোলের নথিপত্র থাকার কথাও উঠে এসেছে।
এ কারণে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, অভিবাসনবিরোধী অভিযান কি শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে, নাকি বৈধ নথি থাকা ব্যক্তিরাও এর আওতায় পড়ছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমর্থকদের একটি অংশ আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প-সমর্থক ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল মনে করেন, আটক ব্যক্তির সংখ্যা এখনও তার প্রত্যাশার তুলনায় কম। তিনি কর্মস্থলেও অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান যত জোরালো হচ্ছে, ততই একদিকে আটকের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে নীতিটির কার্যকারিতা ও মানবিক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কও তীব্র হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডন

























