ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo র‌্যাবের যৌথ অভিযানে কসবায় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহার করে সিএনজি চালক হত্যার ঘটনায় ২ জন গ্রেফতার Logo দুই দিনে টেস্ট শেষ, বাকি সময় ঘুমানোর কথা বললেন শান্ত Logo মার্কিন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দিলে প্রতিবেশীদের শত্রু ভাববে ইরান Logo ছাদে মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২ Logo ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য, ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন Logo বাংলাদেশে এক্সপালস ২০০ সিরিজ নিয়ে এলো হিরো মোটোকর্প Logo নোঙর বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি ঘোষণা, ৭৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন Logo গাজীপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo ডিমলা খাদ্য গুদামের দুই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন বস্তা বিক্রি ও ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ! Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র -পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন 

নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় শান্তিতে সীমাবদ্ধ নই: ট্রাম্প

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯৪ বার পঠিত

বাংলাদেশের কণ্ঠ।। মঙ্গলবার।। ২০.০১.২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার হতাশাকে সরাসরি গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির সঙ্গে যুক্ত করার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরেকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, একাধিক যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি আর শুধু ‘শান্তি’ নিয়ে ভাবতে বাধ্য নন। তার ভাষায়, এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘যা ভালো ও উপযুক্ত’ সেটাই করবেন। সোমবার চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেন স্টোরে নিজেই।

স্টোরে জানান, চিঠিটি আসে তার পাঠানো একটি সৌজন্যমূলক বার্তার জবাবে, যা তিনি ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠিয়েছিলেন। তবে চিঠির ভাষা ও বক্তব্য নরওয়েতে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

বাস্তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয় নরওয়ের নোবেল কমিটি—সরকার-স্বাধীন একটি সংস্থা। এ কথা ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবেই জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টোরে। তবুও ট্রাম্পের ক্ষোভ কমেনি। গত বছর জোরালো প্রচারণা চালিয়েও তিনি পুরস্কার পাননি; বরং পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যিনি পরে প্রতীকীভাবে নিজের পদক ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন।

এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ। কৌশলগত ও খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়া বা চীনের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না এবং ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ছাড়া বিশ্ব নিরাপদ নয়।

এমনকি গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দিলে ইউরোপের একাধিক দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোববার এ নিয়ে ইইউর শীর্ষ কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠক করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নোবেল পুরস্কার নিয়ে হতাশা হয়তো এই সংকটের সূচনা নয়, তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও ভূরাজনৈতিক কৌশল যে একসঙ্গে মিশে গেছে, তা স্পষ্ট। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এখন আর কেবল একটি দ্বীপের মালিকানা প্রশ্ন নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে।

ট্যাগস :

নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় শান্তিতে সীমাবদ্ধ নই: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১২:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের কণ্ঠ।। মঙ্গলবার।। ২০.০১.২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার হতাশাকে সরাসরি গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির সঙ্গে যুক্ত করার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরেকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, একাধিক যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি আর শুধু ‘শান্তি’ নিয়ে ভাবতে বাধ্য নন। তার ভাষায়, এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘যা ভালো ও উপযুক্ত’ সেটাই করবেন। সোমবার চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেন স্টোরে নিজেই।

স্টোরে জানান, চিঠিটি আসে তার পাঠানো একটি সৌজন্যমূলক বার্তার জবাবে, যা তিনি ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠিয়েছিলেন। তবে চিঠির ভাষা ও বক্তব্য নরওয়েতে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

বাস্তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয় নরওয়ের নোবেল কমিটি—সরকার-স্বাধীন একটি সংস্থা। এ কথা ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবেই জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টোরে। তবুও ট্রাম্পের ক্ষোভ কমেনি। গত বছর জোরালো প্রচারণা চালিয়েও তিনি পুরস্কার পাননি; বরং পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যিনি পরে প্রতীকীভাবে নিজের পদক ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন।

এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ। কৌশলগত ও খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়া বা চীনের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না এবং ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ছাড়া বিশ্ব নিরাপদ নয়।

এমনকি গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দিলে ইউরোপের একাধিক দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোববার এ নিয়ে ইইউর শীর্ষ কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠক করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নোবেল পুরস্কার নিয়ে হতাশা হয়তো এই সংকটের সূচনা নয়, তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও ভূরাজনৈতিক কৌশল যে একসঙ্গে মিশে গেছে, তা স্পষ্ট। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এখন আর কেবল একটি দ্বীপের মালিকানা প্রশ্ন নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে।