ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কর্মকর্তাকে জিম্মি করে সরকারি কোয়ার্টার থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট Logo ডাবল রেললাইনে যুক্ত হচ্ছে ঢাকা-সিলেট রুট: প্রধানমন্ত্রীর Logo আইজিপির সঙ্গে ইউনেস্কো প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ Logo লেবাননের সাথে যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি হবেনা : ইসরায়েলি সেনাপ্রধান Logo ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা Logo ৬ বিভাগে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা Logo ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘আসল খরচ’ হতে পারে ৪০–৫০ বিলিয়ন ডলার Logo প্রথম ভোটযুদ্ধেই বাজিমাত করলেন থালাপতি বিজয় Logo ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না বর্তমান সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo নাহিদ ইসলাম দুর্নীতিতে জড়িত না হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ: রাশেদ খাঁন

নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় শান্তিতে সীমাবদ্ধ নই: ট্রাম্প

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৯৮ বার পঠিত

বাংলাদেশের কণ্ঠ।। মঙ্গলবার।। ২০.০১.২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার হতাশাকে সরাসরি গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির সঙ্গে যুক্ত করার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরেকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, একাধিক যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি আর শুধু ‘শান্তি’ নিয়ে ভাবতে বাধ্য নন। তার ভাষায়, এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘যা ভালো ও উপযুক্ত’ সেটাই করবেন। সোমবার চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেন স্টোরে নিজেই।

স্টোরে জানান, চিঠিটি আসে তার পাঠানো একটি সৌজন্যমূলক বার্তার জবাবে, যা তিনি ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠিয়েছিলেন। তবে চিঠির ভাষা ও বক্তব্য নরওয়েতে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

বাস্তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয় নরওয়ের নোবেল কমিটি—সরকার-স্বাধীন একটি সংস্থা। এ কথা ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবেই জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টোরে। তবুও ট্রাম্পের ক্ষোভ কমেনি। গত বছর জোরালো প্রচারণা চালিয়েও তিনি পুরস্কার পাননি; বরং পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যিনি পরে প্রতীকীভাবে নিজের পদক ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন।

এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ। কৌশলগত ও খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়া বা চীনের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না এবং ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ছাড়া বিশ্ব নিরাপদ নয়।

এমনকি গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দিলে ইউরোপের একাধিক দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোববার এ নিয়ে ইইউর শীর্ষ কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠক করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নোবেল পুরস্কার নিয়ে হতাশা হয়তো এই সংকটের সূচনা নয়, তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও ভূরাজনৈতিক কৌশল যে একসঙ্গে মিশে গেছে, তা স্পষ্ট। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এখন আর কেবল একটি দ্বীপের মালিকানা প্রশ্ন নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে।

ট্যাগস :

নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় শান্তিতে সীমাবদ্ধ নই: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১২:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের কণ্ঠ।। মঙ্গলবার।। ২০.০১.২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার হতাশাকে সরাসরি গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির সঙ্গে যুক্ত করার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরেকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, একাধিক যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি আর শুধু ‘শান্তি’ নিয়ে ভাবতে বাধ্য নন। তার ভাষায়, এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘যা ভালো ও উপযুক্ত’ সেটাই করবেন। সোমবার চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেন স্টোরে নিজেই।

স্টোরে জানান, চিঠিটি আসে তার পাঠানো একটি সৌজন্যমূলক বার্তার জবাবে, যা তিনি ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠিয়েছিলেন। তবে চিঠির ভাষা ও বক্তব্য নরওয়েতে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

বাস্তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয় নরওয়ের নোবেল কমিটি—সরকার-স্বাধীন একটি সংস্থা। এ কথা ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবেই জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টোরে। তবুও ট্রাম্পের ক্ষোভ কমেনি। গত বছর জোরালো প্রচারণা চালিয়েও তিনি পুরস্কার পাননি; বরং পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যিনি পরে প্রতীকীভাবে নিজের পদক ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন।

এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ। কৌশলগত ও খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়া বা চীনের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না এবং ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ছাড়া বিশ্ব নিরাপদ নয়।

এমনকি গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দিলে ইউরোপের একাধিক দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোববার এ নিয়ে ইইউর শীর্ষ কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠক করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নোবেল পুরস্কার নিয়ে হতাশা হয়তো এই সংকটের সূচনা নয়, তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও ভূরাজনৈতিক কৌশল যে একসঙ্গে মিশে গেছে, তা স্পষ্ট। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এখন আর কেবল একটি দ্বীপের মালিকানা প্রশ্ন নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে।