ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাতক্ষীরার এমপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর: মরিয়মের বাবা Logo বাংলাদেশ আর্চারী ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন Logo হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬: বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, সংযুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে হুয়াওয়ের প্রতিশ্রুতি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসত বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি Logo দেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো রিসোর্টের নকশা উন্মোচন করল সুখের খামার Logo শতাব্দীর পুরনো পৈত্রিক ভিটা দখলের পাঁয়তারা, নীরব প্রশাসন: নেত্রকোণায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের মানববন্ধন Logo ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে: গালিবাফ Logo টানা কয়েকটি সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়, যা ঘটেছিল রাধিকা আপ্তের সঙ্গে Logo এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেট • লড়াইটাও করতে পারেনি বাংলাদেশ, ১১৪ রানে জিতে ফাইনালে ভারত Logo দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকারি ক্রয় আইনে সংশোধন

যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতিতে মাদুরোর আইনি লড়াই চালাতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬০ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। রোববার ।। ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ।।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মামলায় আইনি ব্যয় বহনের সুযোগ দিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে নিউইয়র্কে মাদক পাচারের অভিযোগে দায়ের করা ফেডারেল মামলায় তার প্রতিরক্ষার খরচ বহন করতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোল্যাক ম্যানহাটানের একটি মার্কিন জেলা আদালতে বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইনের কাছে মামলা খারিজের আবেদন জানান। তার যুক্তি ছিল, নিষেধাজ্ঞার কারণে আইনি ব্যয় বহনে বাধা দিলে মাদুরোর নিজের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

পরবর্তীতে মার্কিন বিচার বিভাগ আদালতকে জানায়, তারা নিষেধাজ্ঞা আংশিক সংশোধনে সম্মত হয়েছে, যাতে ভেনেজুয়েলা সরকার প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের পারিশ্রমিক দিতে পারে। এই পরিবর্তনের পর মামলাটি খারিজের আবেদনকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে নিউইয়র্কে মাদুরোর বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থামেনি। সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তাকে ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে আটক করে আনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। অনেক আইন বিশেষজ্ঞও এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, এটি ছিল বৈধ আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তাদের মতে, বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না যুক্তরাষ্ট্র। যদিও আন্তর্জাতিক আইনে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানদের সাধারণত বিদেশি আদালতের বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয় বলেই দাবি তাদের।

বর্তমানে মাদুরো ও ফ্লোরেস নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে আটক রয়েছেন এবং নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাদুরোর অভিযোগ, এসব মামলা ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি অজুহাত। এদিকে ট্রাম্প বরাবরই বলেছেন, তিনি চান বিদেশি কোম্পানিগুলো দেশটির তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার পাক।

গত ২৬ মার্চের শুনানিতে বিচারক হেলারস্টেইন মামলাটি খারিজের কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারকে আইনি ব্যয় বহনে বাধা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে কি না। প্রসিকিউটরদের যুক্তি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের।

বিচারক হেলারস্টেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক হোক বা না হোক, প্রত্যেক আসামিরই আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রয়েছে—এটি একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার।

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতিতে মাদুরোর আইনি লড়াই চালাতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার

আপডেট সময় : ০৫:২৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। রোববার ।। ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ।।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মামলায় আইনি ব্যয় বহনের সুযোগ দিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে নিউইয়র্কে মাদক পাচারের অভিযোগে দায়ের করা ফেডারেল মামলায় তার প্রতিরক্ষার খরচ বহন করতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোল্যাক ম্যানহাটানের একটি মার্কিন জেলা আদালতে বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইনের কাছে মামলা খারিজের আবেদন জানান। তার যুক্তি ছিল, নিষেধাজ্ঞার কারণে আইনি ব্যয় বহনে বাধা দিলে মাদুরোর নিজের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

পরবর্তীতে মার্কিন বিচার বিভাগ আদালতকে জানায়, তারা নিষেধাজ্ঞা আংশিক সংশোধনে সম্মত হয়েছে, যাতে ভেনেজুয়েলা সরকার প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের পারিশ্রমিক দিতে পারে। এই পরিবর্তনের পর মামলাটি খারিজের আবেদনকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে নিউইয়র্কে মাদুরোর বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থামেনি। সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তাকে ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে আটক করে আনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। অনেক আইন বিশেষজ্ঞও এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, এটি ছিল বৈধ আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তাদের মতে, বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না যুক্তরাষ্ট্র। যদিও আন্তর্জাতিক আইনে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানদের সাধারণত বিদেশি আদালতের বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয় বলেই দাবি তাদের।

বর্তমানে মাদুরো ও ফ্লোরেস নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে আটক রয়েছেন এবং নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাদুরোর অভিযোগ, এসব মামলা ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি অজুহাত। এদিকে ট্রাম্প বরাবরই বলেছেন, তিনি চান বিদেশি কোম্পানিগুলো দেশটির তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার পাক।

গত ২৬ মার্চের শুনানিতে বিচারক হেলারস্টেইন মামলাটি খারিজের কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারকে আইনি ব্যয় বহনে বাধা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে কি না। প্রসিকিউটরদের যুক্তি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের।

বিচারক হেলারস্টেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক হোক বা না হোক, প্রত্যেক আসামিরই আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রয়েছে—এটি একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার।