ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতিতে মাদুরোর আইনি লড়াই চালাতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯১ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। রোববার ।। ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ।।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মামলায় আইনি ব্যয় বহনের সুযোগ দিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে নিউইয়র্কে মাদক পাচারের অভিযোগে দায়ের করা ফেডারেল মামলায় তার প্রতিরক্ষার খরচ বহন করতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোল্যাক ম্যানহাটানের একটি মার্কিন জেলা আদালতে বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইনের কাছে মামলা খারিজের আবেদন জানান। তার যুক্তি ছিল, নিষেধাজ্ঞার কারণে আইনি ব্যয় বহনে বাধা দিলে মাদুরোর নিজের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

পরবর্তীতে মার্কিন বিচার বিভাগ আদালতকে জানায়, তারা নিষেধাজ্ঞা আংশিক সংশোধনে সম্মত হয়েছে, যাতে ভেনেজুয়েলা সরকার প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের পারিশ্রমিক দিতে পারে। এই পরিবর্তনের পর মামলাটি খারিজের আবেদনকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে নিউইয়র্কে মাদুরোর বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থামেনি। সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তাকে ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে আটক করে আনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। অনেক আইন বিশেষজ্ঞও এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, এটি ছিল বৈধ আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তাদের মতে, বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না যুক্তরাষ্ট্র। যদিও আন্তর্জাতিক আইনে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানদের সাধারণত বিদেশি আদালতের বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয় বলেই দাবি তাদের।

বর্তমানে মাদুরো ও ফ্লোরেস নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে আটক রয়েছেন এবং নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাদুরোর অভিযোগ, এসব মামলা ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি অজুহাত। এদিকে ট্রাম্প বরাবরই বলেছেন, তিনি চান বিদেশি কোম্পানিগুলো দেশটির তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার পাক।

গত ২৬ মার্চের শুনানিতে বিচারক হেলারস্টেইন মামলাটি খারিজের কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারকে আইনি ব্যয় বহনে বাধা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে কি না। প্রসিকিউটরদের যুক্তি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের।

বিচারক হেলারস্টেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক হোক বা না হোক, প্রত্যেক আসামিরই আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রয়েছে—এটি একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার।

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতিতে মাদুরোর আইনি লড়াই চালাতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার

আপডেট সময় : ০৫:২৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। রোববার ।। ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ।।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মামলায় আইনি ব্যয় বহনের সুযোগ দিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে নিউইয়র্কে মাদক পাচারের অভিযোগে দায়ের করা ফেডারেল মামলায় তার প্রতিরক্ষার খরচ বহন করতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোল্যাক ম্যানহাটানের একটি মার্কিন জেলা আদালতে বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইনের কাছে মামলা খারিজের আবেদন জানান। তার যুক্তি ছিল, নিষেধাজ্ঞার কারণে আইনি ব্যয় বহনে বাধা দিলে মাদুরোর নিজের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

পরবর্তীতে মার্কিন বিচার বিভাগ আদালতকে জানায়, তারা নিষেধাজ্ঞা আংশিক সংশোধনে সম্মত হয়েছে, যাতে ভেনেজুয়েলা সরকার প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের পারিশ্রমিক দিতে পারে। এই পরিবর্তনের পর মামলাটি খারিজের আবেদনকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে নিউইয়র্কে মাদুরোর বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থামেনি। সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তাকে ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে আটক করে আনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। অনেক আইন বিশেষজ্ঞও এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, এটি ছিল বৈধ আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তাদের মতে, বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না যুক্তরাষ্ট্র। যদিও আন্তর্জাতিক আইনে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানদের সাধারণত বিদেশি আদালতের বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয় বলেই দাবি তাদের।

বর্তমানে মাদুরো ও ফ্লোরেস নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে আটক রয়েছেন এবং নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাদুরোর অভিযোগ, এসব মামলা ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি অজুহাত। এদিকে ট্রাম্প বরাবরই বলেছেন, তিনি চান বিদেশি কোম্পানিগুলো দেশটির তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার পাক।

গত ২৬ মার্চের শুনানিতে বিচারক হেলারস্টেইন মামলাটি খারিজের কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারকে আইনি ব্যয় বহনে বাধা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে কি না। প্রসিকিউটরদের যুক্তি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের।

বিচারক হেলারস্টেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক হোক বা না হোক, প্রত্যেক আসামিরই আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রয়েছে—এটি একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার।