ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ইমনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ Logo বড়ইয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে দেড় কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করলেন সমাজসেবক আতিকুর রহমান আতিক Logo অন্ধকারে নিমজ্জিত মিনি পর্যটনখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু বিজয়নগর সড়ক, ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা Logo বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম ১৭ মিনিট, শাকিরা-ম্যাডোনা-জাস্টিন বিবারের পারফরম্যান্স নিশ্চিত Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গৃহবন্দী, ৩ দিন অনাহারে শিশুসহ পরিবারের ৬ সদস্য  Logo ধামরাইয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি Logo ইরান সংকটে ট্রাম্পের সামনে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা, বলছে নিউইয়র্ক টাইমস Logo রাজাপুরের বড়ইয়ায় মেম্বার প্রার্থী আব্দুল হালিম হাওলাদারের মতবিনিময় সভা Logo অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানববন্ধন

‘দেশ ভয়াবহ সংকটে, ঐক্যবদ্ধ হয়েই তা মোকাবিলা করতে হবে’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৫১ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে দেশ বর্তমানে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। তার দাবি, প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার না হলে দেশের অনেক বড় সমস্যা আগেই সমাধান করা সম্ভব হতো। বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এখনো দেশের বিভিন্ন খাতে যেসব সমস্যা বিদ্যমান, তা তাকে বিস্মিত করে। তার ভাষায়, গত ১৭ বছরে এসব সমস্যার অনেকটাই সমাধান হওয়ার কথা ছিল। উন্নয়নের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়—সেটিও প্রশ্ন রাখেন তিনি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ৩১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে বিএনপি সরকারগুলোর সময়ে এসব হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ এগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করলেও সেগুলোর অনেকগুলোতে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর আরোপিত কর কমানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায়, যেখানে কোনো জনগোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হবে না। সবার অংশগ্রহণে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণই সরকারের লক্ষ্য।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক) বিজন কান্তি সরকার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রতিনিধিরা সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন প্রকল্প বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামে উচ্ছেদ বন্ধ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

ট্যাগস :

‘দেশ ভয়াবহ সংকটে, ঐক্যবদ্ধ হয়েই তা মোকাবিলা করতে হবে’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে দেশ বর্তমানে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। তার দাবি, প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার না হলে দেশের অনেক বড় সমস্যা আগেই সমাধান করা সম্ভব হতো। বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এখনো দেশের বিভিন্ন খাতে যেসব সমস্যা বিদ্যমান, তা তাকে বিস্মিত করে। তার ভাষায়, গত ১৭ বছরে এসব সমস্যার অনেকটাই সমাধান হওয়ার কথা ছিল। উন্নয়নের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়—সেটিও প্রশ্ন রাখেন তিনি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ৩১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে বিএনপি সরকারগুলোর সময়ে এসব হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ এগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করলেও সেগুলোর অনেকগুলোতে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর আরোপিত কর কমানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায়, যেখানে কোনো জনগোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হবে না। সবার অংশগ্রহণে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণই সরকারের লক্ষ্য।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক) বিজন কান্তি সরকার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রতিনিধিরা সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন প্রকল্প বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামে উচ্ছেদ বন্ধ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।