ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী Logo বাংলাদেশবিরোধী অনলাইন অপপ্রচারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo বড়ইয়ায় বিষখালী নদীর ভাঙন রোধে আলোচনা সভা ও ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন Logo নওগাঁয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবন ছাড়ার নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপি Logo সরাইলে টেঁটা-লাঠিসোঁটা ফেলে শান্তির টেবিলে দুই পক্ষ। Logo বাংলা ভাষায় আসছে তুর্কি ঐতিহাসিক সিরিজ ‘সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি’, Logo বাংলাদেশকে হারানোর পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া কাইয়ার, ওয়ানডে সিরিজেও রান করার প্রত্যয় Logo মুন্সীগঞ্জে ময়লার স্তূপে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে রাখা হবে শিশু মনি নিবাসে Logo স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই বিজ্ঞানীকে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবর্ধনা Logo ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে ইঙ্গিত

প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ১৪১ বার পঠিত

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন , প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আন্ত: মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করছিইতোমধ্যে আপনারা জানেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। এখন আমরা চেষ্টা করছি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যে সব সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, সেগুলো একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস-এর আওতায় নিয়ে আসতে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

অটিজম ও স্নায়ু বিকাশ জনিত সমস্যা বিষয়ক সেল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আয়োজিত
আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
ফারজানা শারমীন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষায় প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করব। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অন্তত ১০টি জেলা বা উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ফিজিক্যাল ও মেন্টাল হেলথ, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ একসঙ্গে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
যাদের যে ধরনের সক্ষমতা রয়েছে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই সক্ষমতাকে আরও বিকশিত করা হবে। পাশাপাশি তারা যে পণ্য উৎপাদন করবেন, সেগুলোর বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরও বলেন,
আমরা যেহেতু ইনক্লুসিভ এডুকেশন সিস্টেমের কথা বলছি, তাই একই কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি মাস্টার সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে, যাতে সারাবাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন খাতের প্রশিক্ষণপ্রত্যাশীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা লিগ্যাল এইড কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ বিভিন্ন বিরোধ বা আইনি জটিলতায় তারা প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হন। আমরা সেই অধিকারও নিশ্চিত করতে চাই।

আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনকে আরও সহজ করা। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরা যে মানসিক চাপ ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন, সেখান থেকেও তাদের বের করে আনতে চাই।

প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি পাইলট প্রকল্পের আওতায় এমন ব্যবস্থাও রাখতে চাই, যাতে কোনো অভিভাবক যদি তার সন্তানকে স্কুলে নিয়ে এসে চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, সেই সময়ে তিনি এমন কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন, যার মাধ্যমে কিছু আয় করতে পারবেন। কারণ ওই সময়ে শিশুরা চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট বা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি পরিবর্তন আনতে চাই, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দেশের মূলধারায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে এবং তাদের দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা যাবে।

এ ক্ষেত্রে আপনাদের সবার সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। এখানে উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়ই এই প্রকল্প সফল করা সম্ভব হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা যত অধিকারের কথাই বলি না কেন, সেই অধিকারগুলো তারা পাওয়ার যোগ্য। সেই অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আজকের বৈঠকে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করে দিলে সমন্বয় করা সহজ হবে। তাহলে প্রতিবার সবাইকে আলাদাভাবে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে হবে না।

আমরা আশা করি, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, সেটি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব। কারণ আজ যারা পিছিয়ে আছেন, তারাই ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন।

স্বাক্ষরিত
মোঃ রফিকুল ইসলাম, জনসংযোগ কর্মকর্তা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়,ঢাকা।

ট্যাগস :

প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন , প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আন্ত: মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করছিইতোমধ্যে আপনারা জানেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। এখন আমরা চেষ্টা করছি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যে সব সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, সেগুলো একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস-এর আওতায় নিয়ে আসতে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

অটিজম ও স্নায়ু বিকাশ জনিত সমস্যা বিষয়ক সেল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আয়োজিত
আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
ফারজানা শারমীন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষায় প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করব। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অন্তত ১০টি জেলা বা উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ফিজিক্যাল ও মেন্টাল হেলথ, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ একসঙ্গে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
যাদের যে ধরনের সক্ষমতা রয়েছে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই সক্ষমতাকে আরও বিকশিত করা হবে। পাশাপাশি তারা যে পণ্য উৎপাদন করবেন, সেগুলোর বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরও বলেন,
আমরা যেহেতু ইনক্লুসিভ এডুকেশন সিস্টেমের কথা বলছি, তাই একই কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি মাস্টার সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে, যাতে সারাবাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন খাতের প্রশিক্ষণপ্রত্যাশীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা লিগ্যাল এইড কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ বিভিন্ন বিরোধ বা আইনি জটিলতায় তারা প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হন। আমরা সেই অধিকারও নিশ্চিত করতে চাই।

আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনকে আরও সহজ করা। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরা যে মানসিক চাপ ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন, সেখান থেকেও তাদের বের করে আনতে চাই।

প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি পাইলট প্রকল্পের আওতায় এমন ব্যবস্থাও রাখতে চাই, যাতে কোনো অভিভাবক যদি তার সন্তানকে স্কুলে নিয়ে এসে চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, সেই সময়ে তিনি এমন কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন, যার মাধ্যমে কিছু আয় করতে পারবেন। কারণ ওই সময়ে শিশুরা চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট বা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি পরিবর্তন আনতে চাই, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দেশের মূলধারায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে এবং তাদের দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা যাবে।

এ ক্ষেত্রে আপনাদের সবার সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। এখানে উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়ই এই প্রকল্প সফল করা সম্ভব হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা যত অধিকারের কথাই বলি না কেন, সেই অধিকারগুলো তারা পাওয়ার যোগ্য। সেই অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আজকের বৈঠকে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করে দিলে সমন্বয় করা সহজ হবে। তাহলে প্রতিবার সবাইকে আলাদাভাবে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে হবে না।

আমরা আশা করি, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, সেটি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব। কারণ আজ যারা পিছিয়ে আছেন, তারাই ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন।

স্বাক্ষরিত
মোঃ রফিকুল ইসলাম, জনসংযোগ কর্মকর্তা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়,ঢাকা।