ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চূড়ান্ত সমঝোতায় ইরান পেতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিষেধাজ্ঞা-সুবিধা Logo মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন, বাজারমূল্যে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে ইরান Logo ৫-৭ খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত Logo  জলাশয় ও  শিশু সুরক্ষায় সাত দফা প্রস্তাবনা প্রকাশ করল সামাজিক সংগঠন ‘ঢেউ’ Logo রাজাপুরে খালের জরাজীর্ণ ব্রিজের লোহার বিম নড়বড়ে; বাঁশ-সুপারী গাছ দিয়ে চলছে পারাপার Logo নীলফামারীর ডিমলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের উদ্বোধন  Logo গাজীপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আওয়ামী লীগের ৩০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার Logo কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলা, চেয়ারম্যানসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচিত শিপ্রা রানী হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন 

দেশে প্রসাধনীর বড় বাজার, কালোবাজারিতে কম রাজস্ব

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ২৭৮ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

বিশ্বজুড়ে প্রসাধনীর বাজার অনেক বড়। বাংলাদেশও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। মানুষের সৌন্দর্য সচেতনতা ও ক্রমক্ষমতা বাড়ায় বড় হচ্ছে এ বাজার। দেশি-বিদেশি কোম্পানির পুরোনো পণ্যগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন পণ্য। কালার কসমেটিকসেও এসেছে বড় দেশি বিনিয়োগ। তবে নকল ও কালোবাজারিদের দাপটে বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

প্রসাধনীর সবশেষ বাজার নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) একটি গবেষণা বলছে, কসমেটিকস খাতের প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কালার কসমেটিকস ও সাধারণ ত্বকচর্চার সঙ্গে মেডিকেটেড ত্বকচর্চার পণ্য।

এ খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌন্দর্যপণ্যের এ দুই ধরনের বাজারই বড় হলেও কালার কসমেটিকসে দেশি বিনিয়োগের বেশ কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কালার কসমেটিকসের আওতায় পড়ে মেকআপ ও মেকওভারের জন্য প্রয়োজনীয় সৌন্দর্যপণ্য। এ তালিকায় রয়েছে ফাউন্ডেশন, কনসিলার, ফেসপাউডার, লিপস্টিক, মাসকারা, আইলাইনার, ব্লাশ ইত্যাদি। এসব পণ্যের প্রায় পুরোটা আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে আবার বড় অংশ নকল।

ত্বকচর্চায় দেশের ছয় থেকে সাতটি স্থানীয় কোম্পানি এ খাতের ৮০ শতাংশ বাজার নিজেদের দখলে রেখেছে। এর মধ্যে আছে স্কয়ার টয়লেট্রিজ, কোহিনূর কেমিক্যালস, কেয়া কসমেটিকস, অ্যারোমেটিক কসমেটিকসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সম্প্রতি এ বাজারে বড় বিনিয়োগ করেছে রিমার্ক এইচবি লিমিটেড। যারা এ ত্বকচর্চা পণ্যের সঙ্গে কালার কসমেটিকসেও বিনিয়োগ করছে।

এদিকে দেশে প্রসাধনীর বাজারের তদারকি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই। সংস্থাটির মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের বাজারে যে হারে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়া যায় তার ভিড়ে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের প্রতিযোগিতায় পড়ে। সেক্ষেত্রে নতুন নতুন দেশি প্রতিষ্ঠান অথেনটিক পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে যেভাবে কাজ করছে তা দেশের জন্য অনুসরণীয়। তাই পর্যাপ্ত সুযোগ ও নীতি সহায়তায় এই শিল্পখাত থেকে সরকার আরও বেশি রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।’

তবে এ খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, লাগেজ ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম শুষ্ক দিয়ে বিদেশি পণ্য আমদানি করেন। কসমেটিকস পণ্যের আমদানিকারকদের হয়ে ফ্রেইট এজেন্সিগুলো এতে জড়িত থাকে। কিছু পণ্যের শুল্ক বেশি থাকায় বাজারে অনেক সময় সেসব পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। তখন অসাধু ব্যবসায়ীরা সেসব পণ্য নকল করে বাজারে ছাড়েন। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও এনবিইআর চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, ‘প্রায় ৩শ কোটি ডলারের কসমেটিকস বাজারের শিল্পে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বৈষম্যের কারণ হবে। কারণ এ শিল্পের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ১২ শতাংশ। তাই দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি সহায়তা জরুরি।’

ট্যাগস :

দেশে প্রসাধনীর বড় বাজার, কালোবাজারিতে কম রাজস্ব

আপডেট সময় : ০৩:০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

বিশ্বজুড়ে প্রসাধনীর বাজার অনেক বড়। বাংলাদেশও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। মানুষের সৌন্দর্য সচেতনতা ও ক্রমক্ষমতা বাড়ায় বড় হচ্ছে এ বাজার। দেশি-বিদেশি কোম্পানির পুরোনো পণ্যগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন পণ্য। কালার কসমেটিকসেও এসেছে বড় দেশি বিনিয়োগ। তবে নকল ও কালোবাজারিদের দাপটে বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

প্রসাধনীর সবশেষ বাজার নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) একটি গবেষণা বলছে, কসমেটিকস খাতের প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কালার কসমেটিকস ও সাধারণ ত্বকচর্চার সঙ্গে মেডিকেটেড ত্বকচর্চার পণ্য।

এ খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌন্দর্যপণ্যের এ দুই ধরনের বাজারই বড় হলেও কালার কসমেটিকসে দেশি বিনিয়োগের বেশ কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কালার কসমেটিকসের আওতায় পড়ে মেকআপ ও মেকওভারের জন্য প্রয়োজনীয় সৌন্দর্যপণ্য। এ তালিকায় রয়েছে ফাউন্ডেশন, কনসিলার, ফেসপাউডার, লিপস্টিক, মাসকারা, আইলাইনার, ব্লাশ ইত্যাদি। এসব পণ্যের প্রায় পুরোটা আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে আবার বড় অংশ নকল।

ত্বকচর্চায় দেশের ছয় থেকে সাতটি স্থানীয় কোম্পানি এ খাতের ৮০ শতাংশ বাজার নিজেদের দখলে রেখেছে। এর মধ্যে আছে স্কয়ার টয়লেট্রিজ, কোহিনূর কেমিক্যালস, কেয়া কসমেটিকস, অ্যারোমেটিক কসমেটিকসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সম্প্রতি এ বাজারে বড় বিনিয়োগ করেছে রিমার্ক এইচবি লিমিটেড। যারা এ ত্বকচর্চা পণ্যের সঙ্গে কালার কসমেটিকসেও বিনিয়োগ করছে।

এদিকে দেশে প্রসাধনীর বাজারের তদারকি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই। সংস্থাটির মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের বাজারে যে হারে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়া যায় তার ভিড়ে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের প্রতিযোগিতায় পড়ে। সেক্ষেত্রে নতুন নতুন দেশি প্রতিষ্ঠান অথেনটিক পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে যেভাবে কাজ করছে তা দেশের জন্য অনুসরণীয়। তাই পর্যাপ্ত সুযোগ ও নীতি সহায়তায় এই শিল্পখাত থেকে সরকার আরও বেশি রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।’

তবে এ খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, লাগেজ ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম শুষ্ক দিয়ে বিদেশি পণ্য আমদানি করেন। কসমেটিকস পণ্যের আমদানিকারকদের হয়ে ফ্রেইট এজেন্সিগুলো এতে জড়িত থাকে। কিছু পণ্যের শুল্ক বেশি থাকায় বাজারে অনেক সময় সেসব পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। তখন অসাধু ব্যবসায়ীরা সেসব পণ্য নকল করে বাজারে ছাড়েন। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও এনবিইআর চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, ‘প্রায় ৩শ কোটি ডলারের কসমেটিকস বাজারের শিল্পে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বৈষম্যের কারণ হবে। কারণ এ শিল্পের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ১২ শতাংশ। তাই দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি সহায়তা জরুরি।’