ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চূড়ান্ত সমঝোতায় ইরান পেতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিষেধাজ্ঞা-সুবিধা Logo মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন, বাজারমূল্যে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে ইরান Logo ৫-৭ খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত Logo  জলাশয় ও  শিশু সুরক্ষায় সাত দফা প্রস্তাবনা প্রকাশ করল সামাজিক সংগঠন ‘ঢেউ’ Logo রাজাপুরে খালের জরাজীর্ণ ব্রিজের লোহার বিম নড়বড়ে; বাঁশ-সুপারী গাছ দিয়ে চলছে পারাপার Logo নীলফামারীর ডিমলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের উদ্বোধন  Logo গাজীপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আওয়ামী লীগের ৩০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার Logo কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলা, চেয়ারম্যানসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচিত শিপ্রা রানী হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন 

চূড়ান্ত সমঝোতায় ইরান পেতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিষেধাজ্ঞা-সুবিধা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ২১ বার পঠিত

একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির আওতায় ইরান প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল সুবিধা এবং দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক মুখপাত্র। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, এই ব্যবস্থার পরও কিছু নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

চুক্তির ফলে ইরান পূর্বে স্থগিত বা ফ্রিজ করা তহবিলের একটি অংশ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই ধাপে ৬ বিলিয়ন ডলার করে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য গড়ে ওঠে। পরে সুইজারল্যান্ডে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করা হয় এবং ইরানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে। পরবর্তী ৬০ দিনের সমঝোতা মেয়াদে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও অবমুক্ত তহবিলের সম্মিলিত মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তবে এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই অর্থ ব্যয় করতে পারবে না। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন যে অবাধ অর্থের একটি অংশ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর হাতে যেতে পারে। এ কারণে তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্র মূলত খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, এই অর্থ অনুমোদিত আর্থিক ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বৈধ বাজার চ্যানেলের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের কাজে ব্যবহার করতে হবে। ইরান প্রকাশ্যে এই শর্তের বিরোধিতা না করলেও, দেশটি এই ব্যবস্থাকে কতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করছে তা এখনও পরিষ্কার নয়।

আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশা করছে, সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা লাঘব করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ট্যাগস :

চূড়ান্ত সমঝোতায় ইরান পেতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিষেধাজ্ঞা-সুবিধা

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির আওতায় ইরান প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল সুবিধা এবং দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক মুখপাত্র। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, এই ব্যবস্থার পরও কিছু নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

চুক্তির ফলে ইরান পূর্বে স্থগিত বা ফ্রিজ করা তহবিলের একটি অংশ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই ধাপে ৬ বিলিয়ন ডলার করে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য গড়ে ওঠে। পরে সুইজারল্যান্ডে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করা হয় এবং ইরানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে। পরবর্তী ৬০ দিনের সমঝোতা মেয়াদে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও অবমুক্ত তহবিলের সম্মিলিত মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তবে এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই অর্থ ব্যয় করতে পারবে না। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন যে অবাধ অর্থের একটি অংশ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর হাতে যেতে পারে। এ কারণে তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্র মূলত খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, এই অর্থ অনুমোদিত আর্থিক ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বৈধ বাজার চ্যানেলের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের কাজে ব্যবহার করতে হবে। ইরান প্রকাশ্যে এই শর্তের বিরোধিতা না করলেও, দেশটি এই ব্যবস্থাকে কতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করছে তা এখনও পরিষ্কার নয়।

আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশা করছে, সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা লাঘব করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা