ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আইজিপিসহ পুলিশ পদক পাচ্ছেন ৯২ সদস্য Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাশবনে হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার Logo নজরুলের চেতনায় আলোকিত প্রজন্ম গড়ার আহ্বান Logo সাতক্ষীরার এমপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর: মরিয়মের বাবা Logo বাংলাদেশ আর্চারী ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন Logo হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬: বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, সংযুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে হুয়াওয়ের প্রতিশ্রুতি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসত বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি Logo দেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো রিসোর্টের নকশা উন্মোচন করল সুখের খামার Logo শতাব্দীর পুরনো পৈত্রিক ভিটা দখলের পাঁয়তারা, নীরব প্রশাসন: নেত্রকোণায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের মানববন্ধন Logo ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে: গালিবাফ

২৭ বছর পুরোনো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আবারও বাতাস লিক, বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ১৩৯ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ নতুন করে বাতাস লিকের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা গত সপ্তাহে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের শুরুতে সমস্যাটি সমাধান হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও সম্প্রতি আবারও লিকের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আইএসএস ২০১৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাতাস লিকের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। সমস্যাটির উৎস স্টেশনের রুশ অংশে থাকা ‘পিআরকে’ মডিউলের একটি সরু স্থানান্তর টানেল। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আর্স টেকনিকা প্রথম এ সংকটের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নাসা জানিয়েছিল, একাধিক পরিদর্শন ও সিল্যান্ট প্রয়োগের মাধ্যমে পিআরকে মডিউলকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে গত ১ মে রুশ নভোচারীরা একটি কার্গো আনলোড করার সময় নাসা আবারও মডিউলের অভ্যন্তরে বাতাসের চাপ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করে। নাসার মুখপাত্র জশ ফিঞ্চ জানান, অতি ক্ষুদ্র কাঠামোগত ফাটল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক পাউন্ড বাতাস মহাশূন্যে বেরিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ লিক আইএসএস-এর স্বাভাবিক কার্যক্রম কিংবা সেখানে অবস্থানরত সাত নভোচারীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে না। তবে নাসার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি অবনতি হলে এটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা বা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আর্স টেকনিকার তথ্য অনুযায়ী, নাসা ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য ৫×৫ রিস্ক ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করে থাকে। সেখানে রুশ মডিউলের এই লিককে সম্ভাবনা ও প্রভাব—উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘৫’ মাত্রার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নভোচারীদের জরুরি ভিত্তিতে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্ধার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাসা এবং রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের প্রকৌশলীরা গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ লিক পর্যবেক্ষণ করছেন। ২০২৪ সালের মধ্যে লিকের হার দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নাসা এটিকে আইএসএস-এর অন্যতম বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। নতুন করে লিকের ঘটনা সামনে আসায় ২০৩০ সালে অবসরে যাওয়ার কথা থাকা এই মহাকাশ স্টেশনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও মার্কিন কংগ্রেস স্টেশনটির কার্যক্রম ২০৩২ সাল পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছিল। নাসার বাণিজ্যিক মহাকাশ উড্ডয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ফিল ম্যাকঅ্যালিস্টার আর্স টেকনিকাকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা আইএসএস-কে ২০৩০ সালের মধ্যে অবসর দিয়ে তার পরিবর্তে আরও আধুনিক ও ব্যয়-সাশ্রয়ী বাণিজ্যিক মহাকাশ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে আরও যৌক্তিক করে তুলছে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট

ট্যাগস :

২৭ বছর পুরোনো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আবারও বাতাস লিক, বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০২:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ নতুন করে বাতাস লিকের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা গত সপ্তাহে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের শুরুতে সমস্যাটি সমাধান হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও সম্প্রতি আবারও লিকের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আইএসএস ২০১৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাতাস লিকের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। সমস্যাটির উৎস স্টেশনের রুশ অংশে থাকা ‘পিআরকে’ মডিউলের একটি সরু স্থানান্তর টানেল। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আর্স টেকনিকা প্রথম এ সংকটের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নাসা জানিয়েছিল, একাধিক পরিদর্শন ও সিল্যান্ট প্রয়োগের মাধ্যমে পিআরকে মডিউলকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে গত ১ মে রুশ নভোচারীরা একটি কার্গো আনলোড করার সময় নাসা আবারও মডিউলের অভ্যন্তরে বাতাসের চাপ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করে। নাসার মুখপাত্র জশ ফিঞ্চ জানান, অতি ক্ষুদ্র কাঠামোগত ফাটল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক পাউন্ড বাতাস মহাশূন্যে বেরিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ লিক আইএসএস-এর স্বাভাবিক কার্যক্রম কিংবা সেখানে অবস্থানরত সাত নভোচারীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে না। তবে নাসার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি অবনতি হলে এটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা বা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আর্স টেকনিকার তথ্য অনুযায়ী, নাসা ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য ৫×৫ রিস্ক ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করে থাকে। সেখানে রুশ মডিউলের এই লিককে সম্ভাবনা ও প্রভাব—উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘৫’ মাত্রার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নভোচারীদের জরুরি ভিত্তিতে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্ধার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাসা এবং রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের প্রকৌশলীরা গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ লিক পর্যবেক্ষণ করছেন। ২০২৪ সালের মধ্যে লিকের হার দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নাসা এটিকে আইএসএস-এর অন্যতম বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। নতুন করে লিকের ঘটনা সামনে আসায় ২০৩০ সালে অবসরে যাওয়ার কথা থাকা এই মহাকাশ স্টেশনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও মার্কিন কংগ্রেস স্টেশনটির কার্যক্রম ২০৩২ সাল পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছিল। নাসার বাণিজ্যিক মহাকাশ উড্ডয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ফিল ম্যাকঅ্যালিস্টার আর্স টেকনিকাকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা আইএসএস-কে ২০৩০ সালের মধ্যে অবসর দিয়ে তার পরিবর্তে আরও আধুনিক ও ব্যয়-সাশ্রয়ী বাণিজ্যিক মহাকাশ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে আরও যৌক্তিক করে তুলছে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট