যে স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ জিতেছেন পেলে-ম্যারাডোনা
- আপডেট সময় : ০৩:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ৩০ বার পঠিত

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী আসর হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। এছাড়া এবারই প্রথম ৪৮টি দল অংশ নেবে, ফলে ৩৯ দিনে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে (সাবেক এস্তাদিও আজটেকা)। অন্যদিকে ফাইনাল হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অবস্থিত নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে, যেখানে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।
ইতিহাসের সাক্ষী মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি ভেন্যু মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। ১৯৬৬ সালে নির্মিত এই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৮৩ হাজার। লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম ও সবচেয়ে পরিচিত ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর একটি এটি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য এক কীর্তির মালিক এই স্টেডিয়াম। ১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬—তিনটি ভিন্ন ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব অর্জন করেছে এটি, যা আর কোনো স্টেডিয়ামের নেই।
২০২৬ বিশ্বকাপে এই মাঠে মোট পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ম্যাচে ১১ জুন মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
পেলে ও ম্যারাডোনার স্মৃতি
এই স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। ১৯৭০ সালে এখানে ব্রাজিলকে শিরোপা জিতিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলেছিলেন ফুটবলের রাজা পেলে। সেই দলে রিভেলিনো, টোস্তাও, গার্সন ও জাইরজিনহোর মতো তারকারা ছিলেন। জানা যায়, সেই ফাইনাল বিশ্বের একশ কোটিরও বেশি মানুষ টেলিভিশনে দেখেছিল।
১৬ বছর পর একই ভেন্যুতে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—দুটিই এই মাঠে হয়েছিল।
‘ম্যাচ অব দ্য সেঞ্চুরি’
১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইতালি ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াইও অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই স্টেডিয়ামে। ইতিহাসে ‘ম্যাচ অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে পাঁচ গোলসহ মোট সাতটি গোল হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইতালি ফাইনালে উঠলেও ব্রাজিলের কাছে শিরোপা হারায়।
মেক্সিকোর সাফল্যের মঞ্চ
মেক্সিকো জাতীয় দলের বেশ কিছু স্মরণীয় অর্জনের সাক্ষীও এই স্টেডিয়াম। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যানুয়েল নেগ্রেতের অসাধারণ সিজর-কিক গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া মেক্সিকো ১৯৯৯ সালে কনফেডারেশন্স কাপ ও গোল্ড কাপ জয়ের সাফল্য পেয়েছে। ২০১১ সালে দেশটির অনূর্ধ্ব-১৭ দলও বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল।
বর্তমানে মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকার হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হলেও অতীতে ক্রুজ আজুল, নেকাসা, অ্যাতলেটিকো এস্পানল ও আতলান্তের মতো ক্লাবও এই স্টেডিয়ামকে নিজেদের ঘরের মাঠ হিসেবে ব্যবহার করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামের ম্যাচসূচি
- ১১ জুন: মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
- ১৭ জুন: উজবেকিস্তান বনাম কলম্বিয়া
- ২৪ জুন: চেক রিপাবলিক বনাম মেক্সিকো
- ৩০ জুন: শেষ ৩২-এর একটি ম্যাচ
- ৫ জুলাই: শেষ ষোলোর একটি ম্যাচ
তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের অনন্য রেকর্ড, পেলে ও ম্যারাডোনার শিরোপাজয়ের স্মৃতি এবং অসংখ্য ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফুটবলপ্রেমীদের নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।















