আমদানি কমাতে দ্রুত জাতীয় কেমিক্যাল নীতি চায় ব্যবসায়ীরা
- আপডেট সময় : ০৩:০০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৬৪ বার পঠিত

দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে আমদানিনির্ভরতা কমাতে দ্রুত একটি সমন্বিত জাতীয় কেমিক্যাল নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া, বস্ত্র ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত অধিকাংশ রাসায়নিক বিদেশ থেকে আমদানি করতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘রাসায়নিক নির্ভর রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসিআই কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও এসআর স্পেশালটি কেমিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রব্বানী।
প্রবন্ধে আসিফ রব্বানী জানান, দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো ব্যাপকভাবে রাসায়নিক কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত প্রায় আড়াই হাজার ধরনের কেমিক্যালের বড় অংশই বিদেশ থেকে আসে। ওষুধ শিল্পে প্রয়োজনীয় অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই)-এর প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানিনির্ভর। একইভাবে চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত অধিকাংশ ট্যানিং কেমিক্যালও বিদেশ থেকেই সংগ্রহ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের রাসায়নিক শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার ৬ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বছরে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এ খাতের প্রবৃদ্ধি হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাসায়নিক আমদানির পরিমাণ বেড়ে ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। জাতীয় মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশই রাসায়নিক পণ্য।
তার মতে, উল্টো শুল্ক কাঠামো, এইচএস কোডের জটিলতা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার, বিশেষায়িত কেমিক্যাল গুদামের সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারের অভাব এবং দুর্বল লজিস্টিক ব্যবস্থার কারণে স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
এ সমস্যা সমাধানে সেমিনারে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। প্রথমত, শুল্ক কাঠামো সংস্কার, এইচএস কোডের সমন্বয় এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিশেষায়িত কেমিক্যাল গুদাম, কেমিক্যালভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড), আধুনিক পরীক্ষাগার এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সিঙ্গেল উইন্ডো লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি একটি সমন্বিত জাতীয় কেমিক্যাল নীতি প্রণয়ন করতে হবে। আর চতুর্থত, এপিআই গবেষণা, গ্রিন কেমিস্ট্রি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের যৌথ গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়াতে শক্তিশালী কেমিক্যাল ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। স্থানীয়ভাবে ডাই, কেমিক্যাল ও অন্যান্য বিশেষায়িত কাঁচামালের উৎপাদন বাড়ানো না গেলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
সেমিনারে বক্তারা আরও জানান, আধুনিক কেমিক্যাল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্থানীয় উৎপাদন ব্যয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। পাশাপাশি রাসায়নিক খাতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সক্ষমতা ৬০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশের রপ্তানি শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করেন।




















