ইরানি জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ১৮৭ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। রোববার ।। ১০ মে ২০২৬ ।।
ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে জবাবি হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার (৯ মে) ওমান উপসাগরে ইরানের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পরই এ কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, ইরানের জাহাজ বা বাণিজ্যিক নৌবহরের ওপর যেকোনো আক্রমণের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং প্রতিপক্ষের জাহাজগুলোকে টার্গেট করে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটনের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে খুব শিগগিরই ইরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যেতে পারে। তবে পাকিস্তানের মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বরং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা কূটনৈতিক সমাধানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের নৌবহরকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করছিল।ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার জবাবে তাদের নৌবাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল এই নৌপথ দিয়েই পরিবহন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই কৌশলগত জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ অবস্থান নিয়েছে। চলমান সংকট নিরসনে কাতারসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠকেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের আশপাশে তেল ছড়িয়ে পড়ার আলামত দেখা গেছে। এতে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


















