সংবাদ শিরোনাম :
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধে রুমিন ফারহানার প্রতিবাদ
বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
- আপডেট সময় : ০৮:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ২৬ বার পঠিত

মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সড়কের পাশে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়ে তিনি এর প্রতিবাদ জানান এবং সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সোমবার ১ জুন বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্য বক্তারাও ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের ছিল না, এটি ছিল জনযুদ্ধ; তেমনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিল।
কেউ যদি কোনো গণ-আন্দোলনকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করে, তার পরিণতি অতীতেও ভালো হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।
তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সিনেমা হলও নেই।
কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। এই কালো নকশা কারা বাস্তবায়ন করছে? কারা বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিতে চায়? যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিত করতে চায়, তারাই সংস্কৃতির রাজধানী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি পারিবারিক সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে। আমি সিনেমাটি দেখেছি। এটি শিশু, কিশোর, তরুণ ও প্রবীণ—সবার একসঙ্গে বসে দেখার মতো একটি চলচ্চিত্র। তাহলে এর প্রদর্শনী কেন বন্ধ করা হলো?
তিনি আরো বলেন, ‘যে রাষ্ট্র ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ থেকে রক্ষা করতে পারে না, ৭০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না, যেখানে প্রতিদিন দুইয়ের বেশি মানুষ খুন হয়, যেখানে দুর্নীতি, দুঃশাসন, অর্থ পাচার ও ব্যাংক লুটের ঘটনা ঘটে—সেই রাষ্ট্রে একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করার প্রয়োজন কেন? আমরা একের পর এক মাজার ভাঙার ঘটনা দেখেছি, কবর থেকে মরদেহ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও দেখেছি।
দেশে উগ্রবাদ ও চরমপন্থার উত্থানও প্রত্যক্ষ করেছি। অথচ বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি এমন ছিল না। এ দেশের মাটিতে যেমন আজানের সুমধুর ধ্বনি শোনা গেছে, তেমনি বাউল গানও শোনা গেছে। সকালে কোরআন তেলাওয়াত যেমন শুনেছি, বিকেলে শিশুদের গান চর্চাও শুনেছি। তাহলে কারা বাংলাদেশকে মৌলবাদের ভূমিতে পরিণত করতে চায়?
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘যাদের আজ আপনারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন, যারা আপনাদের মদদে গান, বাজনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সাহস পাচ্ছে, একদিন তাদের হাতেই আপনারা পরাজিত হবেন। আমরা আশা করি, সবার শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আগামী প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন রাষ্ট্র চাই না, যে রাষ্ট্র মানুষকে পিছিয়ে দেবে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’










