ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুর ঢাকায় বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দরিদ্র নারী ও শিশুরা!

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৩৯০ বার পঠিত

আয়েশা আক্তার :

ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই বিশ্বের দূষিত দেশগুলোর মধ্যে ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় দূষণের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নাম। দূষণ তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখা যেন ঢাকার নিয়মমাফিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোনো ভাবেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসছে না ঢাকার বায়ু। ফলে বাড়ছে ঢাকাবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি। আর এমন পরিবেশে ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে দরিদ্র নারী এবং শিশুরা। কারণ তাদের বেশিরভাগই দূষিত এলাকায় বসবাস করেন।

বায়ু দূষণ শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ এবং স্নায়ুর ক্ষতি করে। দূষিত বাতাসের কারণে বাড়ন্ত শিশুরা শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ যেমন নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিসসহ হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভোগে।

দূষিত বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, আরপিএম (শ্বসনযোগ্য কণা পদার্থ), এসপিএম (সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটার) ভাসমান কণার পরিমাণ এত বেশি যে শিশুদের সংবেদনশীল শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণের শিকার হচ্ছে দরিদ্র নারী ও শিশুরা। কারণ তাদের অধিকাংশই দূষিত এলাকায় বাস করে, যেখানে সীসা দূষণের ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও স্নায়বিক ক্ষতি হতে পারে।

ফুসফুসে থাকা সার্ফ্যাক্ট্যান্ট নামের একটি তরল পদার্থ ফুসফুসের দুটি অংশকে একত্রে আটকে থাকতে বা সংকুচিত হতে বাধা দেয়। সার্ফ্যাক্ট্যান্ট না থাকলে শ্বাসকষ্ট হয়। দূষিত বায়ু ফুসফুসের এই তরল পদার্থকে নষ্ট করে ফেলে, যে কারণে এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা তাৎক্ষণিক শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ যেমন নিউমোনিয়া, ব্রংকিওলাইটিসে ভোগে। আবার বায়ু দূষণের কারণে হাঁপানি, ব্রংকাইটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগেও আক্রান্ত হয়। কখনও কখনও এর প্রভাব সারাজীবনের জন্য স্থায়ী হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিছু সমস্যা আরও বাড়তে থাকে।

কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের ব্যাপক ক্ষতি করে বায়ু দূষণ। শিশুদের অস্থিরতা, ঘুম কম হওয়া, খিটখিটে স্বভাব ও শিশুর বুদ্ধির বিকাশ বাধাগ্রস্তেও বায়ুদূষণ বিশেষভাবে দায়ী। বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, হৃদযন্ত্র, চোখ, ত্বক, কিডনি ও প্রজননক্ষমতা ব্যাহত হয়।

বায়ু দূষণ থেকে বাঁচতে শুধু মাস্ক ব্যবহারই নয়, দূষণ রোধে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং একটি দূষণমুক্ত পরিবেশের মধ্যে রেখে শিশুর জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুর ঢাকায় বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দরিদ্র নারী ও শিশুরা!

আপডেট সময় : ০৬:০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আয়েশা আক্তার :

ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই বিশ্বের দূষিত দেশগুলোর মধ্যে ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় দূষণের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নাম। দূষণ তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখা যেন ঢাকার নিয়মমাফিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোনো ভাবেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসছে না ঢাকার বায়ু। ফলে বাড়ছে ঢাকাবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি। আর এমন পরিবেশে ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে দরিদ্র নারী এবং শিশুরা। কারণ তাদের বেশিরভাগই দূষিত এলাকায় বসবাস করেন।

বায়ু দূষণ শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ এবং স্নায়ুর ক্ষতি করে। দূষিত বাতাসের কারণে বাড়ন্ত শিশুরা শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ যেমন নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিসসহ হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভোগে।

দূষিত বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, আরপিএম (শ্বসনযোগ্য কণা পদার্থ), এসপিএম (সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটার) ভাসমান কণার পরিমাণ এত বেশি যে শিশুদের সংবেদনশীল শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণের শিকার হচ্ছে দরিদ্র নারী ও শিশুরা। কারণ তাদের অধিকাংশই দূষিত এলাকায় বাস করে, যেখানে সীসা দূষণের ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও স্নায়বিক ক্ষতি হতে পারে।

ফুসফুসে থাকা সার্ফ্যাক্ট্যান্ট নামের একটি তরল পদার্থ ফুসফুসের দুটি অংশকে একত্রে আটকে থাকতে বা সংকুচিত হতে বাধা দেয়। সার্ফ্যাক্ট্যান্ট না থাকলে শ্বাসকষ্ট হয়। দূষিত বায়ু ফুসফুসের এই তরল পদার্থকে নষ্ট করে ফেলে, যে কারণে এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা তাৎক্ষণিক শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ যেমন নিউমোনিয়া, ব্রংকিওলাইটিসে ভোগে। আবার বায়ু দূষণের কারণে হাঁপানি, ব্রংকাইটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগেও আক্রান্ত হয়। কখনও কখনও এর প্রভাব সারাজীবনের জন্য স্থায়ী হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিছু সমস্যা আরও বাড়তে থাকে।

কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের ব্যাপক ক্ষতি করে বায়ু দূষণ। শিশুদের অস্থিরতা, ঘুম কম হওয়া, খিটখিটে স্বভাব ও শিশুর বুদ্ধির বিকাশ বাধাগ্রস্তেও বায়ুদূষণ বিশেষভাবে দায়ী। বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, হৃদযন্ত্র, চোখ, ত্বক, কিডনি ও প্রজননক্ষমতা ব্যাহত হয়।

বায়ু দূষণ থেকে বাঁচতে শুধু মাস্ক ব্যবহারই নয়, দূষণ রোধে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং একটি দূষণমুক্ত পরিবেশের মধ্যে রেখে শিশুর জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।