ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নুসরাত হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন Logo গাজায় ৩১৫ দিনে ৪ হাজার ৩৭৯ ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ দাবি Logo র‌্যাবের যৌথ অভিযানে কসবায় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহার করে সিএনজি চালক হত্যার ঘটনায় ২ জন গ্রেফতার Logo দুই দিনে টেস্ট শেষ, বাকি সময় ঘুমানোর কথা বললেন শান্ত Logo মার্কিন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দিলে প্রতিবেশীদের শত্রু ভাববে ইরান Logo ছাদে মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২ Logo ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য, ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন Logo বাংলাদেশে এক্সপালস ২০০ সিরিজ নিয়ে এলো হিরো মোটোকর্প Logo নোঙর বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি ঘোষণা, ৭৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন Logo গাজীপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

গাজায় ৩১৫ দিনে ৪ হাজার ৩৭৯ ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ দাবি

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ৩১৫ দিনের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী ৪ হাজার ৩৭৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ২৫৭ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর বিভিন্ন ঘটনায় ১৮০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ৮১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর নিচে এখনো ৮ হাজারের বেশি মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি দপ্তর।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী গাজায় বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। তাদের হিসাবে, ৩১৫ দিনে ১ লাখ ৮৯ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও গাজায় ঢুকেছে ৬৬ হাজার ৬০৭টি ট্রাক। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রায় ৩৫ শতাংশ সহায়তা পৌঁছেছে।

মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মানুষের যাতায়াত নিয়েও সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ২৯ হাজার ৮০০ জনের চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ১১ হাজার ৭৫৯ জন সেই সুযোগ পেয়েছেন। এ হিসাবে নির্ধারিত যাতায়াতের প্রায় ৩৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

গাজার সরকারি দপ্তরের এই পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপত্যকাটিতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘও ২৪ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়েও গাজায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বেসামরিক মানুষ এখনো অনিশ্চিত ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস যুদ্ধবিরতির মধ্যেও চলমান হামলা, মানবিক সহায়তায় বাধা এবং মানুষের চলাচলে সীমাবদ্ধতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টারদের প্রতি যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি—জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উপত্যকাটির মানবিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

SEO Title: গাজায় যুদ্ধবিরতি: ৩১৫ দিনে ৪৩৭৯ লঙ্ঘনের দাবি, নিহত ১২৮৬ ফিলিস্তিনি

ট্যাগস :

গাজায় ৩১৫ দিনে ৪ হাজার ৩৭৯ ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ দাবি

আপডেট সময় : ০২:৪২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ৩১৫ দিনের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী ৪ হাজার ৩৭৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ২৫৭ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর বিভিন্ন ঘটনায় ১৮০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ৮১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর নিচে এখনো ৮ হাজারের বেশি মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি দপ্তর।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী গাজায় বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। তাদের হিসাবে, ৩১৫ দিনে ১ লাখ ৮৯ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও গাজায় ঢুকেছে ৬৬ হাজার ৬০৭টি ট্রাক। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রায় ৩৫ শতাংশ সহায়তা পৌঁছেছে।

মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মানুষের যাতায়াত নিয়েও সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ২৯ হাজার ৮০০ জনের চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ১১ হাজার ৭৫৯ জন সেই সুযোগ পেয়েছেন। এ হিসাবে নির্ধারিত যাতায়াতের প্রায় ৩৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

গাজার সরকারি দপ্তরের এই পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপত্যকাটিতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘও ২৪ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়েও গাজায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বেসামরিক মানুষ এখনো অনিশ্চিত ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস যুদ্ধবিরতির মধ্যেও চলমান হামলা, মানবিক সহায়তায় বাধা এবং মানুষের চলাচলে সীমাবদ্ধতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টারদের প্রতি যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি—জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উপত্যকাটির মানবিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

SEO Title: গাজায় যুদ্ধবিরতি: ৩১৫ দিনে ৪৩৭৯ লঙ্ঘনের দাবি, নিহত ১২৮৬ ফিলিস্তিনি