ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা সভা Logo বড়ইয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ Logo পবিত্র ঈদে-মিলাদুন্নবী (সা:) উপলক্ষে মাছিয়াতা দরবার শরীফে তিনশতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী মহা সম্মেলন ও ৫৬ তম ওরশ মাহফিল সম্পন্ন Logo শালিস-থানা-এমপি মানল না’—গালুয়া বাজারে জমি জবরদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo আওয়ারাপন ২ বক্স অফিস: ২০০ কোটির দোরগোড়ায় ইমরান হাশমির সিনেমা Logo অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ও সাদা বলের সিরিজ Logo অসহায় ৯০ বছরের জারিনার পাশে জেলা প্রশাসন, নির্মাণ করে দেয়া হবে নতুন ঘর Logo কেরালার নাম বদলে ‘কেরালম’ Logo সরকার ভুল করলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন: আইনমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা সভা

মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ৪৬ বার পঠিত
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে স্টেশনটিতে তিতাস ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়টিও সভায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট দুপুর ১২ টার দিকে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ্ আলম।
সভায় বক্তারা বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ কোনোভাবেই নিছক দুষ্টুমি নয়; এটি যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। একটি পাথরের আঘাতে যাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এ বিষয়ে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনে তিতাস ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়ে তিনি রেলওয়ের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ অত্যন্ত অমানবিক ও বিপজ্জনক কাজ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সেখানে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। স্টেশনটিকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী বলেন, “আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আজকের এই আয়োজন। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ অত্যন্ত অমানবিক ও বিপজ্জনক একটি কাজ। জনস্বার্থে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
সভায় হারিস আহমেদ, তায়েফ ভূইয়া, এইচ এম জসিম উদ্দিন, মাহফুজুর রহমান পুষ্প, নুরুল ইসলাম (আরিফ) সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, রেলযাত্রী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি তিতাস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
ট্যাগস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা সভা

আপডেট সময় : ০৬:১৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে স্টেশনটিতে তিতাস ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়টিও সভায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট দুপুর ১২ টার দিকে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ্ আলম।
সভায় বক্তারা বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ কোনোভাবেই নিছক দুষ্টুমি নয়; এটি যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। একটি পাথরের আঘাতে যাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এ বিষয়ে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনে তিতাস ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়ে তিনি রেলওয়ের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ অত্যন্ত অমানবিক ও বিপজ্জনক কাজ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সেখানে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। স্টেশনটিকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী বলেন, “আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আজকের এই আয়োজন। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ অত্যন্ত অমানবিক ও বিপজ্জনক একটি কাজ। জনস্বার্থে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
সভায় হারিস আহমেদ, তায়েফ ভূইয়া, এইচ এম জসিম উদ্দিন, মাহফুজুর রহমান পুষ্প, নুরুল ইসলাম (আরিফ) সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, রেলযাত্রী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি তিতাস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।