ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাঞ্ছারামপুরের জনবান্ধব ইউএনও তরিকুল ইসলামের বদলিতে চরম ক্ষোভ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস সংকটের নেপথ্যে কারা? ডিজিএমকে ঘিরে নানা প্রশ্ন  Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনেও কাটেনি গ্যাস সংকট, দুর্ভোগে ২৬ হাজার গ্রাহক Logo ​ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এজমালি সম্পত্তি একক খারিজে বিক্রয়ের অভিযোগ, ১৪৪ ধারা জারি Logo আশুগঞ্জে মিত্রবাহিনীর স্মরণে নির্মিত মৈত্রীস্তম্ভ উদ্বোধন Logo মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে নৌসদস্যদের সংঘর্ষ, নিহতের দাবি ৭ Logo সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী Logo দেশে নতুন ফোন ‘হট ৭০ প্রো ৫জি’ আনলো ইনফিনিক্স Logo বিজয়নগরে যাত্রীবাহি বাস খাদে পড়ে ১০ জন আহত Logo মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলসহ ৪ দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র ইউনিয়নের মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনেও কাটেনি গ্যাস সংকট, দুর্ভোগে ২৬ হাজার গ্রাহক

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩৬ বার পঠিত
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা তিন দিনেও কাটেনি গ্যাসের তীব্র সংকট। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও দেখা দিয়েছে সংকট।
গত বুধবার ১২ আগস্ট দুপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ও ১৭ টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আবাসিক গ্রাহকদের অনেকেই দিনের পর দিন চুলায় গ্যাস না পাওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু সময় স্বল্প পরিসরে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও চাপ এতটাই কম যে, স্বাভাবিকভাবে চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। ফলে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আকস্মিক এ সংকটে সিলিন্ডার গ্যাসের দোকানগুলোতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে রান্নার কাজ ব্যাহত হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল হক বলেন, জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন। মহেশখালীর এফএসআরইউতে গ্যাসিফিকেশনের জন্য আমদানি করা এলএনজি বঙ্গোপসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লোডিং করা যাচ্ছে না। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ঠিক কখন পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
গ্যাস সংকটে ভোগান্তির কথা জানিয়ে কয়েকজন আবাসিক গ্রাহক বলেন, তিন দিন ধরে নিয়মিত গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাটির চুলা কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।
এদিকে, বুধবার ১২ আগস্ট জিডিসিএলের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকার কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
গ্যাসের এ সংকট কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ট্যাগস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনেও কাটেনি গ্যাস সংকট, দুর্ভোগে ২৬ হাজার গ্রাহক

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা তিন দিনেও কাটেনি গ্যাসের তীব্র সংকট। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও দেখা দিয়েছে সংকট।
গত বুধবার ১২ আগস্ট দুপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ও ১৭ টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আবাসিক গ্রাহকদের অনেকেই দিনের পর দিন চুলায় গ্যাস না পাওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু সময় স্বল্প পরিসরে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও চাপ এতটাই কম যে, স্বাভাবিকভাবে চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। ফলে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আকস্মিক এ সংকটে সিলিন্ডার গ্যাসের দোকানগুলোতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে রান্নার কাজ ব্যাহত হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল হক বলেন, জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন। মহেশখালীর এফএসআরইউতে গ্যাসিফিকেশনের জন্য আমদানি করা এলএনজি বঙ্গোপসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লোডিং করা যাচ্ছে না। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ঠিক কখন পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
গ্যাস সংকটে ভোগান্তির কথা জানিয়ে কয়েকজন আবাসিক গ্রাহক বলেন, তিন দিন ধরে নিয়মিত গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাটির চুলা কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।
এদিকে, বুধবার ১২ আগস্ট জিডিসিএলের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকার কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
গ্যাসের এ সংকট কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।