ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেশার টাকার জন্য স্ত্রী হত্যা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার Logo বাক্কোর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ফয়সল আলিম সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হোসেন Logo আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতে নামিবিয়ার ইতিহাস Logo ২০ জনের বেশি নাবিককে হত্যা করেছে ইরান, দাবি সেন্টকমের Logo ভূমিকম্প সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সতর্ক অবস্থান, যান চলাচল স্বাভাবিক Logo আইফায় ১২ পুরস্কার জিতল ধুরন্ধর, কার হাতে উঠল কোন পুরস্কার? Logo সাঈদ আনোয়ারের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ফখর জামান Logo Logo বিক্ষোভ করা শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ, যান চলাচল স্বাভাবিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনেও কাটেনি গ্যাস সংকট, দুর্ভোগে ২৬ হাজার গ্রাহক

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৯৩ বার পঠিত
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা তিন দিনেও কাটেনি গ্যাসের তীব্র সংকট। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও দেখা দিয়েছে সংকট।
গত বুধবার ১২ আগস্ট দুপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ও ১৭ টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আবাসিক গ্রাহকদের অনেকেই দিনের পর দিন চুলায় গ্যাস না পাওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু সময় স্বল্প পরিসরে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও চাপ এতটাই কম যে, স্বাভাবিকভাবে চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। ফলে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আকস্মিক এ সংকটে সিলিন্ডার গ্যাসের দোকানগুলোতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে রান্নার কাজ ব্যাহত হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল হক বলেন, জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন। মহেশখালীর এফএসআরইউতে গ্যাসিফিকেশনের জন্য আমদানি করা এলএনজি বঙ্গোপসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লোডিং করা যাচ্ছে না। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ঠিক কখন পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
গ্যাস সংকটে ভোগান্তির কথা জানিয়ে কয়েকজন আবাসিক গ্রাহক বলেন, তিন দিন ধরে নিয়মিত গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাটির চুলা কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।
এদিকে, বুধবার ১২ আগস্ট জিডিসিএলের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকার কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
গ্যাসের এ সংকট কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ট্যাগস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনেও কাটেনি গ্যাস সংকট, দুর্ভোগে ২৬ হাজার গ্রাহক

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা তিন দিনেও কাটেনি গ্যাসের তীব্র সংকট। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও দেখা দিয়েছে সংকট।
গত বুধবার ১২ আগস্ট দুপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ও ১৭ টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আবাসিক গ্রাহকদের অনেকেই দিনের পর দিন চুলায় গ্যাস না পাওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু সময় স্বল্প পরিসরে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও চাপ এতটাই কম যে, স্বাভাবিকভাবে চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। ফলে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আকস্মিক এ সংকটে সিলিন্ডার গ্যাসের দোকানগুলোতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে রান্নার কাজ ব্যাহত হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল হক বলেন, জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন। মহেশখালীর এফএসআরইউতে গ্যাসিফিকেশনের জন্য আমদানি করা এলএনজি বঙ্গোপসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লোডিং করা যাচ্ছে না। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ঠিক কখন পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
গ্যাস সংকটে ভোগান্তির কথা জানিয়ে কয়েকজন আবাসিক গ্রাহক বলেন, তিন দিন ধরে নিয়মিত গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাটির চুলা কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।
এদিকে, বুধবার ১২ আগস্ট জিডিসিএলের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকার কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
গ্যাসের এ সংকট কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।