ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আকর্ষণীয় অফারের সাথে যাত্রা শুরু করলো ভিভো ওয়াই৫০০ Logo দেশের রাস্তায় এখন ১ হাজারেরও বেশি বিওয়াইডি গাড়ি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন, সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা Logo আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচের দায়িত্বে কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি Logo আইআরজিসির প্রতি সমর্থন নিষিদ্ধ করল যুক্তরাজ্য Logo স্টার্টআপে নতুন সুযোগ, ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo ​বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলন: প্রবাসী স্ত্রীর কোটি টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চতুর্থ স্বামীর বিরুদ্ধে Logo রাজাপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফরকে ঘিরে মাদারীপুরে নেতাকর্মীদের ঢল

আইআরজিসির প্রতি সমর্থন নিষিদ্ধ করল যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পঠিত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পর রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম মোকাবিলায় নতুন আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ জুলাই) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় আইআরজিসি বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া, তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো, তাদের আয়োজিত সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া কিংবা তাদের প্রতীক ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংসদের অনুমোদন পেলেই আইনটি কার্যকর হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নতুন আইন বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীর হয়ে যুক্তরাজ্যে অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে কারাদণ্ড নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, দেশটির ভেতরে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে আইআরজিসির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বিদেশে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্য ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট নামের একটি সংগঠনকে আইআরজিসি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ পরিচালনা করেছে। তাদের অভিযোগ, সংগঠনটি ইহুদি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ফারসি ভাষার গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাতটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই প্রক্সি গোষ্ঠী পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। সর্বশেষ ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

নতুন আইন কার্যকর হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাষ্ট্র-সমর্থিত নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইন অনুযায়ী, এসব সংগঠনের হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই আইনের আওতায় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একটি স্বেচ্ছাসেবী শাখাকেও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, ইউরোপ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা দুর্বল করতে রাশিয়া নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি অনিয়মিত ও অস্বীকারযোগ্য বাহিনীও ব্যবহার করে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

আইআরজিসির প্রতি সমর্থন নিষিদ্ধ করল যুক্তরাজ্য

আপডেট সময় : ০২:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পর রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম মোকাবিলায় নতুন আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ জুলাই) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় আইআরজিসি বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া, তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো, তাদের আয়োজিত সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া কিংবা তাদের প্রতীক ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংসদের অনুমোদন পেলেই আইনটি কার্যকর হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নতুন আইন বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীর হয়ে যুক্তরাজ্যে অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে কারাদণ্ড নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, দেশটির ভেতরে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে আইআরজিসির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বিদেশে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্য ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট নামের একটি সংগঠনকে আইআরজিসি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ পরিচালনা করেছে। তাদের অভিযোগ, সংগঠনটি ইহুদি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ফারসি ভাষার গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাতটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই প্রক্সি গোষ্ঠী পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। সর্বশেষ ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

নতুন আইন কার্যকর হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাষ্ট্র-সমর্থিত নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইন অনুযায়ী, এসব সংগঠনের হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই আইনের আওতায় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একটি স্বেচ্ছাসেবী শাখাকেও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, ইউরোপ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা দুর্বল করতে রাশিয়া নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি অনিয়মিত ও অস্বীকারযোগ্য বাহিনীও ব্যবহার করে।

সূত্র: রয়টার্স