ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশ আর্চারী ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন Logo হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬: বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, সংযুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে হুয়াওয়ের প্রতিশ্রুতি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসত বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি Logo দেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো রিসোর্টের নকশা উন্মোচন করল সুখের খামার Logo শতাব্দীর পুরনো পৈত্রিক ভিটা দখলের পাঁয়তারা, নীরব প্রশাসন: নেত্রকোণায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের মানববন্ধন Logo ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে: গালিবাফ Logo টানা কয়েকটি সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়, যা ঘটেছিল রাধিকা আপ্তের সঙ্গে Logo এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেট • লড়াইটাও করতে পারেনি বাংলাদেশ, ১১৪ রানে জিতে ফাইনালে ভারত Logo দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকারি ক্রয় আইনে সংশোধন Logo অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেফতার, অপরাধ স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইআরজিসির প্রতি সমর্থন নিষিদ্ধ করল যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০৫ বার পঠিত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পর রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম মোকাবিলায় নতুন আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ জুলাই) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় আইআরজিসি বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া, তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো, তাদের আয়োজিত সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া কিংবা তাদের প্রতীক ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংসদের অনুমোদন পেলেই আইনটি কার্যকর হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নতুন আইন বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীর হয়ে যুক্তরাজ্যে অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে কারাদণ্ড নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, দেশটির ভেতরে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে আইআরজিসির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বিদেশে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্য ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট নামের একটি সংগঠনকে আইআরজিসি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ পরিচালনা করেছে। তাদের অভিযোগ, সংগঠনটি ইহুদি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ফারসি ভাষার গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাতটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই প্রক্সি গোষ্ঠী পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। সর্বশেষ ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

নতুন আইন কার্যকর হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাষ্ট্র-সমর্থিত নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইন অনুযায়ী, এসব সংগঠনের হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই আইনের আওতায় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একটি স্বেচ্ছাসেবী শাখাকেও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, ইউরোপ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা দুর্বল করতে রাশিয়া নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি অনিয়মিত ও অস্বীকারযোগ্য বাহিনীও ব্যবহার করে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

আইআরজিসির প্রতি সমর্থন নিষিদ্ধ করল যুক্তরাজ্য

আপডেট সময় : ০২:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পর রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম মোকাবিলায় নতুন আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ জুলাই) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় আইআরজিসি বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া, তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো, তাদের আয়োজিত সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া কিংবা তাদের প্রতীক ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংসদের অনুমোদন পেলেই আইনটি কার্যকর হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নতুন আইন বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীর হয়ে যুক্তরাজ্যে অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে কারাদণ্ড নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, দেশটির ভেতরে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে আইআরজিসির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বিদেশে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্য ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট নামের একটি সংগঠনকে আইআরজিসি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ পরিচালনা করেছে। তাদের অভিযোগ, সংগঠনটি ইহুদি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ফারসি ভাষার গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাতটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই প্রক্সি গোষ্ঠী পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। সর্বশেষ ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

নতুন আইন কার্যকর হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাষ্ট্র-সমর্থিত নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইন অনুযায়ী, এসব সংগঠনের হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই আইনের আওতায় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একটি স্বেচ্ছাসেবী শাখাকেও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, ইউরোপ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা দুর্বল করতে রাশিয়া নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি অনিয়মিত ও অস্বীকারযোগ্য বাহিনীও ব্যবহার করে।

সূত্র: রয়টার্স