ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

আইআরজিসির প্রতি সমর্থন নিষিদ্ধ করল যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১২৯ বার পঠিত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পর রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম মোকাবিলায় নতুন আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ জুলাই) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় আইআরজিসি বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া, তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো, তাদের আয়োজিত সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া কিংবা তাদের প্রতীক ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংসদের অনুমোদন পেলেই আইনটি কার্যকর হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নতুন আইন বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীর হয়ে যুক্তরাজ্যে অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে কারাদণ্ড নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, দেশটির ভেতরে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে আইআরজিসির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বিদেশে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্য ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট নামের একটি সংগঠনকে আইআরজিসি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ পরিচালনা করেছে। তাদের অভিযোগ, সংগঠনটি ইহুদি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ফারসি ভাষার গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাতটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই প্রক্সি গোষ্ঠী পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। সর্বশেষ ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

নতুন আইন কার্যকর হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাষ্ট্র-সমর্থিত নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইন অনুযায়ী, এসব সংগঠনের হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই আইনের আওতায় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একটি স্বেচ্ছাসেবী শাখাকেও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, ইউরোপ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা দুর্বল করতে রাশিয়া নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি অনিয়মিত ও অস্বীকারযোগ্য বাহিনীও ব্যবহার করে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

আইআরজিসির প্রতি সমর্থন নিষিদ্ধ করল যুক্তরাজ্য

আপডেট সময় : ০২:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পর রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম মোকাবিলায় নতুন আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ জুলাই) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় আইআরজিসি বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া, তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো, তাদের আয়োজিত সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া কিংবা তাদের প্রতীক ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংসদের অনুমোদন পেলেই আইনটি কার্যকর হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নতুন আইন বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীর হয়ে যুক্তরাজ্যে অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে কারাদণ্ড নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, দেশটির ভেতরে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে আইআরজিসির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বিদেশে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্য ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট নামের একটি সংগঠনকে আইআরজিসি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ পরিচালনা করেছে। তাদের অভিযোগ, সংগঠনটি ইহুদি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ফারসি ভাষার গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাতটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই প্রক্সি গোষ্ঠী পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। সর্বশেষ ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

নতুন আইন কার্যকর হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাষ্ট্র-সমর্থিত নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইন অনুযায়ী, এসব সংগঠনের হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই আইনের আওতায় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একটি স্বেচ্ছাসেবী শাখাকেও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, ইউরোপ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা দুর্বল করতে রাশিয়া নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি অনিয়মিত ও অস্বীকারযোগ্য বাহিনীও ব্যবহার করে।

সূত্র: রয়টার্স