ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

হরমুজে জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চাইবে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ১৩৫ বার পঠিত

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হামলা না চালানোর বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য অঙ্গীকার আদায়ের চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যেই শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হচ্ছেন।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছে তেহরান। তবে ইরানের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী জড়িত ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরও উভয় দেশ কূটনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা জুন মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তের পরিপন্থী।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত মেনে চলেছে ইরান। বরং তার অভিযোগ, চুক্তি লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী দেশটির কট্টরপন্থী একটি অংশ আলোচনায় বিঘ্ন ঘটানোর উদ্দেশ্যে জাহাজে গুলি চালিয়েছিল।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানান, ইরান আলোচনায় ফিরে এসে হামলার ঘটনাকে ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ওমানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তেহরানের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হবে না। পাশাপাশি সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে ভুল হিসেবে প্রকাশ্যে স্বীকার করার আহ্বানও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে উত্তেজনা প্রশমনে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করেছে। একই দিনে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ইরান আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মতি দিয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

গত সোমবার ওমানের জলসীমার কাছে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। যদিও ইরান বারবার বলছে, আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করেই চলাচল করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি কমানো। ওই সমঝোতায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে পৃথক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :

হরমুজে জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চাইবে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হামলা না চালানোর বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য অঙ্গীকার আদায়ের চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যেই শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হচ্ছেন।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছে তেহরান। তবে ইরানের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী জড়িত ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরও উভয় দেশ কূটনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা জুন মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তের পরিপন্থী।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত মেনে চলেছে ইরান। বরং তার অভিযোগ, চুক্তি লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী দেশটির কট্টরপন্থী একটি অংশ আলোচনায় বিঘ্ন ঘটানোর উদ্দেশ্যে জাহাজে গুলি চালিয়েছিল।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানান, ইরান আলোচনায় ফিরে এসে হামলার ঘটনাকে ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ওমানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তেহরানের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হবে না। পাশাপাশি সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে ভুল হিসেবে প্রকাশ্যে স্বীকার করার আহ্বানও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে উত্তেজনা প্রশমনে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করেছে। একই দিনে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ইরান আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মতি দিয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

গত সোমবার ওমানের জলসীমার কাছে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। যদিও ইরান বারবার বলছে, আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করেই চলাচল করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি কমানো। ওই সমঝোতায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে পৃথক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি