কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ তিন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ২৫ বার পঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করা এক তরুণকে গুলি করা এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একজনকে যাবজ্জীবন এবং আরেকজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। তাদের সবাই বর্তমানে পলাতক। উল্লেখ্য, হাবিবুর রহমান এর আগেও চানখাঁরপুল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।
এ মামলায় রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর এক আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রীয় এই টেলিভিশন চ্যানেলে রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া পঞ্চম রায়। প্রসিকিউশন এ মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করে।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে যাচাই-বাছাই শেষে একই বছরের ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৩ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শেষ হয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকে।
প্রথমে গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পর তা স্থগিত করা হয়। পরে ১৫ জুন নতুন করে ২৮ জুন রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী আজ রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলির মুখে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। পুলিশ তাকে ধাওয়া করে ভবনের ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একপর্যায়ে তিনি কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।























