এসএসসিতে অকৃতকার্যদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী: ‘ফলাফল তোমার পরিচয় নয়’
- আপডেট সময় : ০৩:০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পঠিত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর মতে, পরীক্ষার ফলাফল কোনো শিক্ষার্থীর সামগ্রিক পরিচয় নির্ধারণ করে না; এটি কেবল নির্দিষ্ট সময়ের একটি পরীক্ষার ফল।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ফল প্রকাশের দিনটি কষ্টকর হলেও এটিকে জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। কয়েক ঘণ্টার পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর একজন শিক্ষার্থীর পরিশ্রম, স্বপ্ন কিংবা ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারে না।
তিনি বলেন, ফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের প্রতিক্রিয়া এবং নিজের হতাশা—সবকিছু মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। এর সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের তুলনা, প্রতিবেশীদের নানা প্রশ্ন কিংবা সহপাঠীদের আচরণও চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এই পরিস্থিতি সাময়িক এবং এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সবসময় রয়েছে।
অভিভাবকদের প্রতিও বিশেষভাবে সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, ফল খারাপ হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বাবা-মায়ের সামনে দাঁড়াতেই ভয় পেতে পারে। তাই এ সময়ে বকাঝকা বা তিরস্কারের পরিবর্তে তাদের ভালোবাসা, স্নেহ ও মানসিক সমর্থন দেওয়া জরুরি। তিনি অভিভাবকদের ঘরের পরিবেশকে শাস্তির জায়গা না বানিয়ে সন্তানের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়েছে, তাদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী কেন ভালো করতে পারেনি, তার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষকদেরও রয়েছে। শিক্ষার্থীর ব্যর্থতাকে এককভাবে তার নিজের দায় হিসেবে দেখার পরিবর্তে শিক্ষা ব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজেদের ভূমিকা বিবেচনা করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে কারও জীবনের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায় না। আজ যে শিক্ষার্থী হতাশ, ভবিষ্যতে সফল হওয়ার পর সে হয়তো ফিরে তাকিয়ে বুঝতে পারবে—এই একটি ফলাফল নিয়ে সেদিন এতটা ভেঙে পড়ার প্রয়োজন ছিল না।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, তিনি বিশ্বাস করেন, এসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে যাবে।
এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবারের পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগও রাখা হয়েছে।























