ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

বিশ্ব ভ্রমণে নাজমুনের ১৭৮ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২২৬০ বার পঠিত

ফারুক খান
(রবিবার, ১৬.০২.২৫)

“জীবকে সাজাতে, মনকে রাঙ্গাতে ভ্রমণের বিকল্প নেই” এই অনন্য ধারনাকে সামনে রেখে একের পর এক দেশ ভ্রমণ করে চলেছেন বাংলাদেশী মেয়ে নাজমুন নাহার। এ পর্যন্ত তিনি বিশ্বের ১৭৮ দেশ ভ্রমন করেছেন। বিশ্বে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত দেশ মোট ১৯৩টি। আর অল্প কয়েকটি দেশ ভ্রমন করলেই একজন মুসলীম বাংলাদেশী নারী হিসাবে নাজমুন পৌঁছে যাবেন এক অনন্য উচ্চতায়। যা নিয়ে বাংলাদেশের সবাই গৌরব বোধ করতে পারবেন নি:সন্দেহে।

কথা হলো সেই বিশ্বয় নারী নাজমুন নাহারের সাথে। বললেন, এই কাজটি করা মোটেও সহজ ছিলো না। কারন বেশ কয়েকবার মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছেন অনেকটা ভাগ্য আর সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায়। যেমনটি মাঝরাতে ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে আটকা পড়েছেন, আবার সাহারা মরুভূমিতে মরুঝড়ের কবলে পড়ে রক্তাক্ত হয়েছেন, স্পেনে গিয়ে পড়েছেন ছিনতাইকারীর কবলে, অফ্রিকায় আদিবাসীদের মধ্যে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলছেন। এতসব বিপদে পড়েও নাজমুনের মনে পরিতৃপ্তির ছোঁয়া। তিনি মনে মনে করেন, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই যে কোন বিপদে কেউ না কেই এগিয়ে এসেছেন। মানুষের ভালোবাসায় বার বার আপ্লুত হয়েছেন তিনি। নাজমুন মনে করেন এখনো বিশ্বে ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশী।

নাজমুন নাহার বলেন, ২০২০ সালে ভারতের ভুপালে ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এডভেঞ্চার’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার বিশ্ব ভ্রমণ শুরু। সেখানে বিশ্বের ৮০টি দেশের ছেলে-মেয়েদের সামনে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেন। এরপরই তার মাথায় আসে পতাকা হাতে বিশ্ব ভ্রমনের আইডিয়া। নাজমুন মনে করেন, এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও কালচার সম্প্রর্কে একটা ধারনা তুলে ধরা যাবে। তুলে ধরে যাবে দেশীয় নানা ঐতিয্য। এরই ধারবাহিকতায় চলতে থাকে বিশ্ব ভ্রমণ।

২000 সালে বিশ্ব ভ্রশন শরু করেন নাজমুন। ২০২৪ সালের ০৯ই নভেম্বর ১৭৮টি দেশ ভ্রমণ করার অনন্য রেকর্ড করেন তিনি। ১৪ টি দেশ ভ্রমণের সময় তার সঙ্গী ছিলেন মা তাহেরা আমিন। বিশ্ব ভ্রমণের এই অনুপ্রেরণা নাজমুন পেয়েছেন তার বাবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন ও তার দাদা ফিকাহ শাস্ত্রবিদ আলহাজ ফকীহ আহম্মদ উল্লাহর কাছ থেকে।

নাজমুন নাহার লক্ষীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তবে ভ্রমনের টাকা মূলত সংগ্রহ করেন ২০০৬ সালে সুইডেনে পড়াশুনা করার পাশাপাশি খন্ড্কালীন কাজ করে। নাজমুন মনে করেন, সারা বিশ্ব ভ্রমন করে নিজের দেশকে তুলে ধরতে গিয়ে তেমন কোন বড় আর্থিক সহযোগীতা পাননি তিনি। তবে ১০০টি দেশ ভ্রমণের পর কিছু স্পন্সর পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে যে কোন ভাবেই হোক বিশ্ব ভ্রমণ শেষ করতে চান। নাজমুন মনে করেন, সংগ্রাম করে কোন কিছু অর্জন করার মাঝে আনন্দ আছে।

ট্যাগস :

বিশ্ব ভ্রমণে নাজমুনের ১৭৮ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ফারুক খান
(রবিবার, ১৬.০২.২৫)

“জীবকে সাজাতে, মনকে রাঙ্গাতে ভ্রমণের বিকল্প নেই” এই অনন্য ধারনাকে সামনে রেখে একের পর এক দেশ ভ্রমণ করে চলেছেন বাংলাদেশী মেয়ে নাজমুন নাহার। এ পর্যন্ত তিনি বিশ্বের ১৭৮ দেশ ভ্রমন করেছেন। বিশ্বে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত দেশ মোট ১৯৩টি। আর অল্প কয়েকটি দেশ ভ্রমন করলেই একজন মুসলীম বাংলাদেশী নারী হিসাবে নাজমুন পৌঁছে যাবেন এক অনন্য উচ্চতায়। যা নিয়ে বাংলাদেশের সবাই গৌরব বোধ করতে পারবেন নি:সন্দেহে।

কথা হলো সেই বিশ্বয় নারী নাজমুন নাহারের সাথে। বললেন, এই কাজটি করা মোটেও সহজ ছিলো না। কারন বেশ কয়েকবার মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছেন অনেকটা ভাগ্য আর সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায়। যেমনটি মাঝরাতে ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে আটকা পড়েছেন, আবার সাহারা মরুভূমিতে মরুঝড়ের কবলে পড়ে রক্তাক্ত হয়েছেন, স্পেনে গিয়ে পড়েছেন ছিনতাইকারীর কবলে, অফ্রিকায় আদিবাসীদের মধ্যে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলছেন। এতসব বিপদে পড়েও নাজমুনের মনে পরিতৃপ্তির ছোঁয়া। তিনি মনে মনে করেন, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই যে কোন বিপদে কেউ না কেই এগিয়ে এসেছেন। মানুষের ভালোবাসায় বার বার আপ্লুত হয়েছেন তিনি। নাজমুন মনে করেন এখনো বিশ্বে ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশী।

নাজমুন নাহার বলেন, ২০২০ সালে ভারতের ভুপালে ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এডভেঞ্চার’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার বিশ্ব ভ্রমণ শুরু। সেখানে বিশ্বের ৮০টি দেশের ছেলে-মেয়েদের সামনে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেন। এরপরই তার মাথায় আসে পতাকা হাতে বিশ্ব ভ্রমনের আইডিয়া। নাজমুন মনে করেন, এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও কালচার সম্প্রর্কে একটা ধারনা তুলে ধরা যাবে। তুলে ধরে যাবে দেশীয় নানা ঐতিয্য। এরই ধারবাহিকতায় চলতে থাকে বিশ্ব ভ্রমণ।

২000 সালে বিশ্ব ভ্রশন শরু করেন নাজমুন। ২০২৪ সালের ০৯ই নভেম্বর ১৭৮টি দেশ ভ্রমণ করার অনন্য রেকর্ড করেন তিনি। ১৪ টি দেশ ভ্রমণের সময় তার সঙ্গী ছিলেন মা তাহেরা আমিন। বিশ্ব ভ্রমণের এই অনুপ্রেরণা নাজমুন পেয়েছেন তার বাবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন ও তার দাদা ফিকাহ শাস্ত্রবিদ আলহাজ ফকীহ আহম্মদ উল্লাহর কাছ থেকে।

নাজমুন নাহার লক্ষীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তবে ভ্রমনের টাকা মূলত সংগ্রহ করেন ২০০৬ সালে সুইডেনে পড়াশুনা করার পাশাপাশি খন্ড্কালীন কাজ করে। নাজমুন মনে করেন, সারা বিশ্ব ভ্রমন করে নিজের দেশকে তুলে ধরতে গিয়ে তেমন কোন বড় আর্থিক সহযোগীতা পাননি তিনি। তবে ১০০টি দেশ ভ্রমণের পর কিছু স্পন্সর পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে যে কোন ভাবেই হোক বিশ্ব ভ্রমণ শেষ করতে চান। নাজমুন মনে করেন, সংগ্রাম করে কোন কিছু অর্জন করার মাঝে আনন্দ আছে।