এবার দেশের সব ধরনের দুধে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- আপডেট সময় : ০৪:০৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পঠিত

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া প্রায় সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরীক্ষার আওতায় আনা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে।
‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন অব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ: ক্যারেক্টারাইজেশন, ডায়েটারি এক্সপোজার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণাটি সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৩-২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানের সহায়তায় পরিচালিত এ গবেষণাকে দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং মানবদেহে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রথম বিস্তৃত গবেষণা বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।
গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং সুপারশপ থেকে মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ঢাকা, যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা ১৭টি কাঁচা দুধের নমুনা, ১২টি ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং ১২টি বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধজাত খাদ্য।
মাইক্রোস্কোপ ও এফটিআইআর (FTIR) প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষার পর দেখা যায়, প্রতিটি নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি দূষণ ধরা পড়ে প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডের দুধে। প্রতি ১০০ মিলিলিটার ব্র্যান্ডের দুধে গড়ে ১৫৬ দশমিক ৬টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। একই পরিমাণ কাঁচা দুধে গড়ে ৯৩ দশমিক ৩৯টি এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যে ৭০ দশমিক ৮০টি কণা শনাক্ত হয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, দুধ সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং উৎপাদন কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও প্লাস্টিক পাইপের সংস্পর্শে আসার সময় এসব অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা খাদ্যে মিশে যেতে পারে।
পরীক্ষায় পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের অধিকাংশই ছিল স্বচ্ছ রঙের, আঁশের মতো এবং ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম আকারের। কাঁচা দুধে শনাক্ত হওয়া কণার প্রায় ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ব্র্যান্ডের দুধে প্রায় ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশই ছিল আঁশ-আকৃতির। এছাড়া নমুনাগুলোতে পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস এবং পলিস্টাইরিনের মতো বিভিন্ন ধরনের পলিমার শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে শিশুদের বিষয়ে। ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, তাদের শরীরের ওজন তুলনামূলক কম এবং খাদ্যতালিকায় দুধের পরিমাণ বেশি থাকায় প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের হার প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি হতে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে গবেষকরা দুগ্ধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি উন্নতমানের ফিল্টারিং প্রযুক্তি ব্যবহার, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মান নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুপারিশও করা হয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে।
























