রাজধানীতে সিএনজি সংকট: এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০৭:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পঠিত

রাজধানীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে পরিবহনসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে দিন-রাতজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি। কোথাও কোথাও গভীর রাত থেকেই চালকেরা লাইনে অবস্থান নিচ্ছেন, যাতে সকালে গ্যাস সংগ্রহ করা যায়। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। কয়েকজন চালক জানান, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে। এতে তাদের কর্মঘণ্টার বড় অংশ নষ্ট হচ্ছে এবং দৈনিক আয়ও কমে যাচ্ছে।
বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং সেবার চালকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে গ্যাস না পাওয়ায় তারা নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। এর প্রভাব পড়ছে তাদের উপার্জনের ওপর, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চালকদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
এদিকে কয়েকজন চালকের অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভবিষ্যতে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করা হতে পারে। তাদের ভাষ্য, অতীতে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতির পর মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুধু চালকরাই নন, গ্যাসের স্বল্প সরবরাহের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরাও। তাদের দাবি, এলএনজি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তিও কমে আসবে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা না গেলে রাজধানীর গণপরিবহন চলাচল আরও ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত এবং পরিবহন খাতের সামগ্রিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।





















