বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের ২ধাপ অবনতি:টিআই
- আপডেট সময় : ০২:০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪ ১৭৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের আরও ২ ধাপ অবনতি হয়েছে। তালিকায় ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দশম। ২০২২ সালে, অবস্থান ছিল ১২তম। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচক-২০২৩ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে এ তথ্য জানান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সিপিআই সূচকে দুর্নীতির ধারণার মাত্রাকে ০ থেকে ১০০-এর স্কেলে নির্ধারণ করা হয়। ‘০’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ‘১০০’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত বলে ধারণা করা হয়। টিআই বলেছে, এবার বাংলাদেশ স্কোর ২৪, যা গতবারের চেয়ে ১ পয়েন্ট কম।
সিপিআই সূচকের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের স্কোর এবং অবস্থান গত যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থাৎ স্কোর ও অবস্থান বিবেচনায় আবারও নিম্নমুখী যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ২০১২ সাল থেকে ব্যবহৃত ১০০-স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২০২২ সাল পর্যন্ত ২৫ থেকে ২৮-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা গভীর উদ্বেগজনক বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে এ কারণে ‘বাংলাদেশ দুর্নীতিগ্রস্ত বা বাংলাদেশের অধিবাসীরা সবাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত’-এ ধরনের ব্যাখ্যা ঠিক নয়। যদিও দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, সর্বোপরি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে কঠিনতম অন্তরায়, তথাপি দেশের আপামর জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তারা দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র। ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে দেশ বা জনগণকে কোনোভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাবে না।
প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান হতাশাজনক। এবার বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থানের পতন প্রমাণ করে যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে বাস্তবায়িত হয়নি। আইন প্রয়োগ ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের আরও অবনতি হয়েছে।
র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, এ বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র পাকিস্তান ও নেপালের অবস্থানের যথাক্রমে ৭ ধাপ ও ২ ধাপ উন্নতি হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৬টি দেশের অবস্থানের ১ থেকে ১৪ ধাপ পর্যন্ত অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীলংকার ১৪ ধাপ, আফগানিস্তানের ১২ ধাপ, ভারত ও মালদ্বীপের ৮ ধাপ, বাংলাদেশের ২ ধাপ এবং ভুটানের অবস্থানের ১ ধাপ অবনমন হয়েছে।

























