জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:২৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ২১ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত নয়, যা সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তিনি এ বিষয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর সদস্যদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফ-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই তাদের প্রধান দায়িত্ব। তবে দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হন, সে বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার সময়কার এসএসএফ এবং বর্তমান সময়ের এসএসএফ-এর কার্যপরিধি ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বহুমাত্রিক হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, প্রায় চার দশক আগে প্রয়োজনের তাগিদে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীটি গঠিত হয় এবং ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)’ নামে নতুন যাত্রা শুরু করে। তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সব সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান।
এসএসএফ-এর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া তার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত বৃহৎ জানাজার আয়োজনেও বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।
তিনি জানান, এসএসএফ-এর কার্যক্রম সম্পর্কে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তরুণ বয়স থেকেই তিনি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত। সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রীয় বিধান অনুযায়ী এসএসএফ তার নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
জনভোগান্তি কমাতে নিজের গাড়িবহরের আকার সীমিত করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে এসএসএফ সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জটিল কাজ। একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে কাজ করতে হয়।
নবনির্মিত আধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সদস্যদের এ সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০২ সালের পর এটি পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন সংস্করণটি বাহিনীর কার্যপদ্ধতি নির্ধারণের পাশাপাশি সদস্যদের আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব এবং চেইন অব কমান্ড মেনে চলা প্রতিটি সদস্যের জন্য অপরিহার্য।
তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এজন্য অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়।
তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করে এসএসএফ গঠন করা হয় এবং তাদের দেশ-বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বিশ্বের আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসএসএফকে আরও দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সবশেষে তিনি এসএসএফ সদস্যদের দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, এসএসএফ প্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।






















