নির্বাচনে কোনো অনাচার ধরা পড়লেই ক্ষমতার প্রয়োগ করতে হবে:ম্যাজিস্ট্রেটদের সিইসি
- আপডেট সময় : ০২:৩০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, সংসদ নির্বাচনে কোনো অনাচার ধরা পড়লেই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
রোববার (৩১ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। এবার দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থে নির্বাচনের আন্তর্জাতিক মাত্রা মাথায় রাখতে হবে। কোনো অনাচার ধরা পড়লে ক্ষমতা দিয়ে প্রতিকার করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র দেশ। প্রজাতন্ত্র মানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা সরকার পরিচালিত হয়। নির্বাচনে যারা সংসদে বসবে, সংখ্যাগরিষ্ঠ তারাই সংবিধান প্রণয়ন করবে। নির্বাচন আমাদের দ্বারপ্রান্তে। নির্বাচন নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের যেমন বাগবিতণ্ডা হচ্ছে, সহিংসতাও হয়েছে। আমাদের নির্বাচনে আরেকটি কারণে মনোযোগী হতে হবে, কারণ রাজনৈতিক একটা অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে। সাধারণত নির্বাচন খুব উৎসবমুখর হয়।
সিইসি বলেন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময় নির্বাচনটা পরিচালনা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে নির্বাচনে মুসলীম লীগের ভরাডুবি হয়েছিল। অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এরপর সব সময়ই নির্বাচন উৎসমুখর হয়েছে। সে বিষয়টা এবার ক্ষুণ্ন হয়েছে, যেহেতু একটা অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে। ১৪ সালে নির্বাচন বর্জন হয়েছিল, সহিংসতা হয়েছিল। সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ, আপনারা জানেন। ১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও কিছু বিতর্ক হয়েছে। নির্বাচন সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক ছিল। কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না। পরবর্তীতে সেটা নিয়ে কিছু বিতর্ক হয়েছে। যার ফলে আমাদের দেশে প্রচলিত যে নির্বাচনটা নিয়ে সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, এবারের নির্বাচনটা যে কোনো মূল্যে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে একটি সরকার তার দায়িত্বে থেকে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে, নির্বাচন কমিশন ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডি, সরকার সেখানে সাংবিধানিকভাবে সাহায্য করতে বাধ্য। আবার সরকারের সহায়তা ছাড়া আমরা নির্বাচন করতে পারি না। ১৬ লাখ লোক ভোটের কাজে নিয়োজিত হবে। এতে আট লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আট লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
তিনি বলেন, নির্বাচন ইন্টারন্যাশনাল ডাইমেনশন পেয়েছে। কেননা, আমরা জাতিসংঘের সদস্য। পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র, তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। সরকার এবং আমাদের সঙ্গে তারা বারবার সাক্ষাত করছেন। তাদের প্রত্যাশা তারা ব্যক্ত করেছেন, তারা আশা করেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠু হবে। তারা যখন আশা করেন, বুঝতে হবে খুব শক্তভাবেই আশা করেন। তাদের আশাটা অন্যায় নয়। আমরা যেহেতু গ্লোবাল কমিউনিটিতে বসবাস করি। আমরা গ্লোবাল কমিউনিটির সদস্য।
নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না বলেও জানান সিইসি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে। সেখানে আপনাদের যে দায়িত্বটা, সেটা আপনারা খুব স্পষ্টভাবে বুঝে নেবেন। যে দায়িত্বটা আরোপ করা হবে, সে দায়িত্বটা যদি ভালোভাবে বুঝে নেন, তাহলে দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগে অনেক বেশি দক্ষ হবেন।

























