শক্তিশালী ঈগলের মতোই কি হানা দিবে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’?
- আপডেট সময় : ০৬:০৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭০ বার পঠিত

আয়েশা আক্তার :
দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এ পরিণত হয়েছে। রোববার (৩ ডিসেম্বর) আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে ঈগলের সাথে ঘূর্ণিঝড়ের সম্পর্ক কোথায়? তার আগে বলি ‘মিগজাউম’ ঘূর্ণিঝড় ঠিক কবে থেকে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি করেছে।
২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর দক্ষিণ আন্দামান সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ অঞ্চল থেকে গঠিত হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম। লঘুচাপ অঞ্চলটি ২ ডিসেম্বর একটি নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং ৩ ডিসেম্বর একটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে তীব্রতা বৃদ্ধি করে। ৩ ডিসেম্বর সকালে দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় এবং ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এই নিম্নচাপটিকে ‘মিগজাউম’ নাম প্রদান করে। আবহাওয়াবিদদের তথ্যানুসারে, ভারতের অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে মঙ্গলবার (০৫ ডিসেম্বর)।
ঈগলের সাথে ঘূর্ণিঝড়ের কি সম্পর্ক?-ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম বা মিচাউং নামটি মায়ানমার এর দেওয়া। মিগজাউম হল একটি বার্মিজ শব্দ যার অর্থ “একটি বড়, শক্তিশালী ঈগল”। প্রশ্ন উঠছে ঠিক এই নাম অনুসারে কি বড় আকারের শক্তিশালী ঈগলের মতোই কি আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’!
আবহাওয়াবিদদের মতে ঘূর্ণিঝড়ের যে গতিমুখ, এটি বাংলাদেশ উপকূলে আসার শঙ্কা নেই বললেই চলে। তবে এটি ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের নেল্লোর এবং মাচিলিপাটনামের মাঝ দিয়ে স্থলভাগে ওঠে আসবে। ওড়িষ্যা, অন্ধ্র উপকূলে ঝড়ের প্রভাবে দেড় মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এছাড়া ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ে ঘর-বাড়ি, স্থাপনা, গাছ-পালা, পশু-পাখি, বিদ্যুতের লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
শঙ্কা না থাকলেও বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। সাগর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় সব সমুদ্রবন্দরে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে। কারন, গত নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ সৃষ্টি হয়েছিল। ১৭ নভেম্বর এটি পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার কাছ দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানে। ‘মিধিলি’র শক্তি খুব বেশি না থাকলেও নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। যার কারনে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের পর অঞ্চলভিত্তিক ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ আগে থেকেই করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর তথা উত্তর ভারত মহাসাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড়, সেগুলোর নাম ঠিক করবে এই অঞ্চলের ১৩টি দেশ। দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড মেটেরলজিক্যাল অরগানাইজেশন প্যানেলের সদস্য এই দেশগুলো কয়েকটি করে নাম জমা দেয়। সেই নামগুলোই পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ের নাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য ক্রমনির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সর্বশেষ ২০২০ সালের এপ্রিলে এই দেশগুলোর কাছ থেকে ১৩টি করে নাম নেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলের বর্তমান ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মিগজাউম’ রাখা হয়েছে যা মিয়ানমারের দেওয়া।

























