ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo একটি কোম্পানির মাধ্যমে সকল রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী Logo বটতলায় জমজমাট ফাইনাল: চ্যাম্পিয়ান ভাতকাঠি একতা ফাউন্ডেশন। Logo সুন্দরগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ Logo অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশুর Logo জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী Logo রাজাপুর সদর ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করলেন ছাত্রনেতা নাফিজ Logo বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল দারাজ Logo বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী Logo বাগেরহাটে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সনাকের মানববন্ধন ও ১১ দফা সুপারিশ পেশ Logo বিদ্যালয়ে প্রেম নিবেদন, থানায় ৩ কিশোর, বহিষ্কার ২ ছাত্রী

রেজা কিবরিয়া ও নূর এর দ্বন্দ্ব কোন পথে?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩ ১৯৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে নুরুল হক নুরের সঙ্গে রেজা কিবরিয়ার বিরোধ চলছে। গণমাধ্যমে কে হবেন দলের মূল ভোকাল- এরকম আলোচনার মধ্যেই নানাবিধ প্রসঙ্গ তাদের বিরোধ আরও তুঙ্গে নিয়ে যায়।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হকের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে দলে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতির ঘটনা ঘটেছে। নুরুল হক ও তার সমমনারা রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে মো. রাশেদ খানকে দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করেছেন। বিনিময়ে রেজা কিবরিয়া নুরুল হক ও রাশেদকে দলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে দলের নতুন সদস্য সচিব ঘোষণা করেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া নুরুল হক ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নুরুল ও তার সমমনা ব্যক্তিরা ২০২১ সালের অক্টোবরে গণঅধিকার পরিষদ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণফোরাম ছেড়ে আসা রেজা কিবরিয়াকে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দল পরিচালনা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে নুরুল হকের বিরোধ চলছিল। তারা একে অপরকে অভিযুক্ত করে বিবৃতি দিয়েছেন। দুজনে নিজ নিজ ফেসবুক পেজে পোস্ট করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

দুই নেতার বিরোধের জেরে দলে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় গত রোববার ঢাকায় রেজা কিবরিয়ার বাসায় বৈঠক করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। ওই বৈঠকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে উত্তেজনা ছিল বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। সূত্র জানায়, বৈঠকে রেজা কিবরিয়া দলের সদস্য সচিব নুরুল হকের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ তোলেন। এ ছাড়া দলের তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রেজা কিবরিয়া।

অন্যদিকে, নুরুল হক পাল্টা বলেন, তাদের দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া অনেক দিন ধরেই ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ইনসাফ কায়েম কমিটির কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। সে জন্য টাকা পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ নুরুল হকের। এ ছাড়া দলের কর্মকাণ্ডে সময় না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে।

ওই বৈঠকের পরদিন ১৯ জুন সোমবার রেজা কিবরিয়া বিদেশে যান। এদিকে সোমবার রাতে নুরুল হকের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়।

গণঅধিকার পরিষদের প্যাডে রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নুরুল হককে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও রাশেদ খানকে যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মঙ্গলবার (২০ জুন) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দেন নুর। স্ট্যাটাসে নুর লেখেন, রেজা কিবরিয়া গণঅধিকার পরিষদের ২১ জনকেও ভালোভাবে চেনেন না, নামও বলতে পারবেন না। ৫৪ জেলা কমিটির ১০ জনকেও চেনেন কিনা সন্দেহ!

তিনি আরও বলেন, গত আড়াই বছরে রেজা কিবরিয়া প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ টাকাও খরচ করেননি, ২০টি কর্মসূচিতেও ছিলেন না। গণঅধিকার পরিষদ কিংবা গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ, পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গঠনে রেজা কিবরিয়ার কোনো ভূমিকাও নাই। সবকিছু গুছিয়ে আমরাই তাকে একটা গোছানো প্ল্যাটফর্মে এনেছিলাম। তিনি সে সম্মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। সুতরাং গণঅধিকার পরিষদের সংগঠকদের কাউকে বহিষ্কার করা বা গণঅধিকার পরিষদকে বিভক্ত করার যোগ্যতা রেজা কিবরিয়া রাখেন না।

রেজা কিবরিয়ার মনোনীত সদস্যসচিব হাসান আল মামুন জানান,‘রেজা কিবরিয়া ভাই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আমি মনে করি, সংগঠনের সবাই মিলে বসে সেটির সমাধান করা উচিত।’

রেজা কিবরিয়া বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

রেজা কিবরিয়া ও নূর এর দ্বন্দ্ব কোন পথে?

আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে নুরুল হক নুরের সঙ্গে রেজা কিবরিয়ার বিরোধ চলছে। গণমাধ্যমে কে হবেন দলের মূল ভোকাল- এরকম আলোচনার মধ্যেই নানাবিধ প্রসঙ্গ তাদের বিরোধ আরও তুঙ্গে নিয়ে যায়।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হকের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে দলে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতির ঘটনা ঘটেছে। নুরুল হক ও তার সমমনারা রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে মো. রাশেদ খানকে দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করেছেন। বিনিময়ে রেজা কিবরিয়া নুরুল হক ও রাশেদকে দলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে দলের নতুন সদস্য সচিব ঘোষণা করেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া নুরুল হক ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নুরুল ও তার সমমনা ব্যক্তিরা ২০২১ সালের অক্টোবরে গণঅধিকার পরিষদ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণফোরাম ছেড়ে আসা রেজা কিবরিয়াকে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দল পরিচালনা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে নুরুল হকের বিরোধ চলছিল। তারা একে অপরকে অভিযুক্ত করে বিবৃতি দিয়েছেন। দুজনে নিজ নিজ ফেসবুক পেজে পোস্ট করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

দুই নেতার বিরোধের জেরে দলে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় গত রোববার ঢাকায় রেজা কিবরিয়ার বাসায় বৈঠক করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। ওই বৈঠকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে উত্তেজনা ছিল বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। সূত্র জানায়, বৈঠকে রেজা কিবরিয়া দলের সদস্য সচিব নুরুল হকের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ তোলেন। এ ছাড়া দলের তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রেজা কিবরিয়া।

অন্যদিকে, নুরুল হক পাল্টা বলেন, তাদের দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া অনেক দিন ধরেই ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ইনসাফ কায়েম কমিটির কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। সে জন্য টাকা পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ নুরুল হকের। এ ছাড়া দলের কর্মকাণ্ডে সময় না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে।

ওই বৈঠকের পরদিন ১৯ জুন সোমবার রেজা কিবরিয়া বিদেশে যান। এদিকে সোমবার রাতে নুরুল হকের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়।

গণঅধিকার পরিষদের প্যাডে রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নুরুল হককে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও রাশেদ খানকে যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মঙ্গলবার (২০ জুন) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দেন নুর। স্ট্যাটাসে নুর লেখেন, রেজা কিবরিয়া গণঅধিকার পরিষদের ২১ জনকেও ভালোভাবে চেনেন না, নামও বলতে পারবেন না। ৫৪ জেলা কমিটির ১০ জনকেও চেনেন কিনা সন্দেহ!

তিনি আরও বলেন, গত আড়াই বছরে রেজা কিবরিয়া প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ টাকাও খরচ করেননি, ২০টি কর্মসূচিতেও ছিলেন না। গণঅধিকার পরিষদ কিংবা গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ, পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গঠনে রেজা কিবরিয়ার কোনো ভূমিকাও নাই। সবকিছু গুছিয়ে আমরাই তাকে একটা গোছানো প্ল্যাটফর্মে এনেছিলাম। তিনি সে সম্মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। সুতরাং গণঅধিকার পরিষদের সংগঠকদের কাউকে বহিষ্কার করা বা গণঅধিকার পরিষদকে বিভক্ত করার যোগ্যতা রেজা কিবরিয়া রাখেন না।

রেজা কিবরিয়ার মনোনীত সদস্যসচিব হাসান আল মামুন জানান,‘রেজা কিবরিয়া ভাই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আমি মনে করি, সংগঠনের সবাই মিলে বসে সেটির সমাধান করা উচিত।’

রেজা কিবরিয়া বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।