সংবাদ শিরোনাম :
‘চাঁদা না দিলে রাস্তায় পড়ে থাকবে লাশ’: হিন্দু পল্লীতে আতঙ্ক
বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পঠিত

নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে হুমকিমূলক একটি চিঠি রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। বিকাশের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের বাকনাই (পালপাড়া) গ্রামের হিন্দু পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ওই গ্রামের বাসিন্দা বৈদ্যনাথ পালের ছেলে নারায়ণ কুমার পালের বাড়ির বারান্দায় চিঠিটি রেখে যায়। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে দুর্বৃত্তরা গোপনে এসে চিঠিটি রেখে যায়। পরে নারায়ণ কুমার পালের ছেলে অরুণ কুমার পাল প্রথমে চিঠিটি দেখতে পান। বিষয়টি তিনি পরিবারের সদস্যদের জানালে দ্রুতই খবরটি আশপাশের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। পালপাড়ার প্রতিটি হিন্দু পরিবারকে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠাতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি পরিবারে চিঠি পৌঁছানোর পর সেটি অন্য হিন্দু পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে পালপাড়ার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ভীতি বিরাজ করছে। অনেক পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হতে পারে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে চিঠিটি জব্দ করে। পুলিশ এই চিঠির উৎস শনাক্ত ও জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে। এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। চিঠিটি জব্দ করা হয়েছে। এর উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
















